তবে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা দিয়েছে নানামুখী সমস্যা। সংযোগ সড়ক উঁচু হয়ে পড়া ও পন্টুন নিচু হয়ে যাওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে বাড়ছে সময় ও দুর্ভোগ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

সরজমিনে রাজবাড়ীর ব্যস্ততম নৌ-রুট দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় বর্তমানে সচল থাকা ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক উঁচু হয়ে গেছে, আর পন্টুনগুলো নিচু হয়ে পড়েছে। এ কারণে যানবাহন ওঠানামার সময় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ঘাট এলাকায় সারাক্ষণ ধুলাবালির দাপটও চোখে পড়ে। সংযোগ সড়ক উঁচু হয়ে যাওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানো ও নামাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। এ অবস্থার জন্য ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন চালকরা।

সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা কে-লাইন পরিবহনের চালক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখনই সংযোগ সড়ক মেরামত না করলে ঈদের সময় যাত্রী পারাপার খুবই কষ্টকর হয়ে পড়বে।’ একই অভিযোগ রাজবাড়ীর ট্রাকচালক খায়ের উদ্দিন মিয়ার।

এদিকে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে পারাপার সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন রাখতে গতকাল দুপুরে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিনসহ ঘাটসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এ নৌ-রুটে ১৬টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে এবং দৌলতদিয়ার সচল থাকা তিনটি ঘাট দিয়েই পারাপার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ বলেন, ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিশেষ টহল টিম মোতায়েন করা হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট।’