ছাত্রলীগ নেত্রীদের হাতে প্রথম বর্ষের ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় এক সপ্তাহ ধরে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। এ ঘটনার সঙ্গে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের কণ্ঠসদৃশ সেলফোনের কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ফাঁস ও চাকরির দাবিতে আন্দোলন।

গতকাল দিনভর এ দুটি ইস্যুতে ক্যাম্পাস ছিল উত্তপ্ত। ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল প্রশাসন ও হাইকোর্টের নির্দেশে  কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন তদন্ত কমিটি গতকাল পৃথকভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে। 

তদন্ত কমিটির ডাকে গতকাল সকালে ক্যাম্পাসে আসেন অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেত্রী  সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তাবাস্সুম ইসলাম মীম। সকাল সাড়ে ৯টায় তাদের বক্তব্য দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে হাজির হন তারা। এরপর দফায় দফায় অভিযুক্ত দুজনের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করে কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডলের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি। এছাড়া নির্যাতনের শিকার ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকেও ডাকা হয়। দিনশেষে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়।

ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল শাখার সহসভাপতি তাবাস্সুম ইসলাম মীমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ৩টা পর্যন্ত র‍্যাগিংয়ের নামে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ‘বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ’ করা হয় বলে নবাগত ছাত্রী ফুলপরী খাতুন অভিযোগ করেন। 

এদিকে তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ছাত্রলীগের অভিযুক্ত দুই নেত্রীর কেউ  সাংবাদিকদের কথা বলতে চাননি। তারা বলেন, ‘আমাদের যা বলার তা তদন্ত কমিটির কাছে বলেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক রেবা মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা দুদিনে মোট তিনজনের বক্তব্য নিয়েছেন। কী পেয়েছেন সেটা তো বলা যাবে না। তদন্ত রিপোর্ট তারা যথাসময়ে জমা দেবেন। সেখানেই তাদের বক্তব্য থাকবে।’

হাইকোটের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ. ন. ম. আবুজর গিফারী, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানা ও ইবির হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহবুব আলম।

ছাত্রী নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মৌন মিছিল হয়েছে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

অন্যদিকে সেলফোনে চাকরি নিয়োগ বোর্ড ইস্যুতে কথোপকথনের অডিও ফাঁস নিয়ে গতকাল উপাচার্যের কার্যালয়ে ফের তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ নাম দিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের চাকরি দেয়ার দাবি করে আসছেন। আন্দোলনকারীরা অনেকে বিশ্বাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। ফলে উপাচার্য গতকাল তার কার্যালয়ে আসেননি। তিনি ক্যাম্পাসের বাসভবনে বসে অফিস করেছেন।পরে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গোপন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। 

এর আগে একটি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত যে অডিও সামাজিক মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে সেটাকে একটি ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনাকে সংযোজন-বিয়োজন করে বিশেষ উদ্দেশ্যে তুলে আনা হয়েছে বলে অভিহিত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। এটাকে কাল্পনিক প্রচারণা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে এমনটা দাবি করা হয়েছে।