বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছেন সিলেটের তিনটি চা বাগান শ্রমিকরা। আজ সিলেট বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শ্রমিকদের দাবি, ২০ সপ্তাহ ধরে বেতন না পাওয়ায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ চা বাগানের শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নামছেন।

জানা যায়, সিলেটের বুরজান চা-কোম্পানির অধীনে তিনটি চা বাগান রয়েছে। বুরজান, ছড়াগাঙ, কালাগুল ও বুরজান কারখানার শ্রমিকদের ২০ সপ্তাহের বেতন বকেয়া। ১ মে বকেয়া বেতন প্রদান ও চা বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে নগরীর লাক্কাতুরা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ২ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন চা শ্রমিকরা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. আনোয়ার উজ জামানের আশ্বাসে তারা সে সময়ে স্থান ত্যাগ করেন।

চা শ্রমিক ও বাগান রক্ষা কমিটির সাধারণ সদস্য সোহাগ ছত্রী বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট হারে নির্ধারিত সময়েই বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। চা বাগান ও শ্রমিক স্বার্থে আমাদের এ কর্মসূচি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সিলেটের কালাগুল চা-বাগানে শ্রমিকের কাজ করছেন জসোদা বাউরি।

তিনি জানান, শুরুতে তার দৈনিক মজুরি ছিল ৬ টাকা। সময়ের সঙ্গে তার মজুরি ও রেশনের পরিমাণ একটু একটু করে বেড়েছে। কিন্তু এ লম্বা সময়ে কখনো টানা ২০ সপ্তাহ মজুরি না পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। দোল উৎসবের জন্য তারা কোনো বোনাস পাননি। প্রতিবাদ করেছিলেন। তখন আশ্বাস পেয়েছিলেন। তবে সে আশ্বাস পূরণ হয়নি। মে দিবস গেল, অথচ তাদের পাওনা পরিশোধ হলো না।’

চা শ্রমিক ও বাগান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক রঞ্জিত নায়েক রঞ্জু বলেন, ‘আশ্বাস দেয়া হলেও কেউ কথা রাখেনি। একে একে ২০ সপ্তাহ ধরে বেতন ভাতা বন্ধ শ্রমিকদের। আমরা অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু একটিও পূরণ হয়নি। দাবি আদায়ের জন্য আজ মালনীছড়ায় সিলেট বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করব।’

এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে কথা বলেছি।’

বকেয়া বেতনের বিষয়ে বুরজান চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘শ্রমিকদের পাশাপাশি বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেতন পাননি। বকেয়া বেতন ও মজুরি পরিশোধের জন্য কৃষি ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’