অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিরাজগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৩টি স্থানে ২০২১ সালে ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে পুলিশ। পৌরসভা ও সিরাগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সহযোগিতায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়। এজন্য একটি তদারকি কক্ষও স্থাপন করা হয়। কয়েকটি মনিটরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হতো। কয়েক বছর পর্যন্ত ক্যামেরাগুলো সচল ছিল। তবে প্রায় দুই বছর ধরে সব ক্যামেরা অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কিছু আবার চুরিও হয়ে গেছে। এতে শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যামেরাগুলো আবার সচল করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সমন্বয়ক নবকুমার কর্মকার বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার পর অপরাধপ্রবণতা অনেকটা কমে এসেছিল। কিন্তু সেগুলো সচল রাখা যায়নি। এ কারণে মহল্লায় সংঘর্ষের ঘটনাগুলো বাড়ছে। মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা থাকলে ঘটনায় জড়িতদের সহজে শনাক্ত করা যায়।’

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নিচতলায় একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে তাতে ছয়টি মনিটর ও প্যানেল বসিয়ে তদারক করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধী শনাক্ত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। এজন্য প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং এ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে উপজেলাগুলোয় ছড়িয়ে দেয়া। ছয়জন অপারেটর প্রতিদিন সিসিটিভি ক্যামেরা তদারক করবেন। কোনো অপরাধ ঘটলে প্রয়োজনে পুলিশ অফিসের কট্রোল রুমকে অবহিত করবেন তারা। সে মোতাবেক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। তদারকির অভাবে কিছু ক্যামেরা চুরি হয়ে গেছে। কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। অপরাধ দমন, নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সিসি ক্যামেরা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে আবারো ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।’

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কিন্তু তদারকি না থাকায় সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। কিছু আবার অকেজো হয়ে পড়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীসহ শহরের বাসিন্দারা অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’