বগুড়ায় দক্ষ জনশক্তি গঠনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত সরকারি এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গত ছয় বছরে বগুড়ার ৬৬৫ নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারা এখন বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জানা যায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার অধীনে এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প বগুড়াসহ ১০ জেলায় ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে যা সারা দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ছয় মাসমেয়াদি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু করে এ কেন্দ্র। বগুড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ১ হাজার টাকা কোর্স ফি দিয়ে এ কেন্দ্র থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেয়া যায়। প্রশিক্ষণ শেষে মেধার ভিত্তিতে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে চারজনের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগও রয়েছে। এসএসসি উত্তীর্ণ যেকোনো নারী এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া প্রশিক্ষণ শেষে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক সনদ প্রদান করা হয়।

জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্পের বগুড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ছয় বছরে ৬৬৫ নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৮২ জন চাকরিজীবী। ঘরে বসে আয় ও আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে উপার্জন করছেন পাঁচজন। আর উদ্যোক্তা হয়েছেন তিনজন এবং বাকিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও পারিবারিক কাজ সম্পাদন করছেন।

প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কামরুন নাহার দীপা জানান, তিনি ২০১৩ সালে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে চাকরি করছেন। সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় তিনি এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চাকরি পান। চাকরির আয় দিয়ে সংসার পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন। তিনি জানান, তার অন্য বোনদেরও তিনি সেখানে ভর্তি করে দিয়েছেন।

প্রশিক্ষণার্থী নুসরাত জাহান জানান, তিনি ২০১৮ সালে অফিস অ্যাপ্লিকেশন ও পরে গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি জানান, তার কোনো কম্পিউটার বিষয়ে জ্ঞান ছিল না। এখন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অনেক কিছু শিখেছেন। কম্পিউটার জানার আগে চাকরির আবেদন করতে পারতেন না, এখন তিনি সহজেই করতে পারেন।

বগুড়া কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রেজোয়ানা নাসরিন জানান, তিনি তার স্কিল ডেভেলপমেন্ট হিসেবে প্রথম কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেই প্রশিক্ষণটি এখন চাকরি জীবনে কাজে লাগছে। জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্পের বগুড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক (কম্পিউটার) খাদিজাতুল কোবরা জানান, এক সময় ছিল সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ নিতে হতো। সেখানে নারীদের জন্য ততটা ভালো পরিবেশ থাকত না। কিন্তু সরকারিভাবে এখানে শুধু নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে নারীদের জন্য মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণশেষে অনেক প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন স্থানে চাকরি করছেন। নারীরা এখন এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। যখনই কেউ প্রশিক্ষিত হবেন, তখনই তিনি নিজে কিছু করার প্রেরণা পাবেন। এ কারণে যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, তাদের বড় অংশই চাকরিজীবী বা উদ্যোক্তা হয়ে সংসার পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন।