আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না। সংবিধান পরিবর্তন করার কোন সুযোগ
নেই।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানকে অনেক কচুকাটা করেছেন। আইন করে বঙ্গবন্ধু
হত্যার ঘাতকদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। সংবিধানে হাত দেওয়ার অধিকার কারো নেই। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক
নিয়ে দিবাস্বপ্ন; রঙিন খোয়াব দেখে লাভ নেই।’
আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয়
বাংলার সামনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান
অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন কাদের।
এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি কেন সোহরাওয়ার্দী মাঠকে বাদ দিয়ে পল্টনে
জনসভা করতে চায়? তার কারণ আমরা সকলেই জানি। গত নির্বাচনের
আগেও তো বেগম জিয়াও এখানে মিটিং করেছেন। কিন্তু ফখরুল আপনি কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
সমাবেশ করতে চায় না! ধরা পড়ে গেছে, ধরা পড়ে গেছে! স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আপনার
মধ্যে নেই তা আবারো প্রমাণিত হলো। এ কারণেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাচ্ছে
না ফখরুল।
রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি
খবর পেয়েছি বিএনপির রাজশাহীর সমাবেশ সুপার ফ্লপ হচ্ছে আজ। ফখরুল হুংক্কার ছুড়ছেন। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশের ছবিটা একটু দেখতে বলবেন।
বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ১০ ডিসেম্বর
যখন চলে যাবে, জানি অবরোধ দেবেন, জানি ধর্মঘট দেবেন, জানি আবারো আগুন-সন্ত্রাস শুরু
করবেন, জানি আবারো লাঠিখেলা করবেন। ঢাকা দখল করবেন। আমরা কি বসে থাকবো? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
ললিপপ খাবো?
বিএনপির সমাবেশে যানবাহন বন্ধ না করতে পরিবহন মালিক সমিতির
নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এখনই শুনলাম বিএনপির
নেতাকর্মীরা বিছানা-বালিশ, শীতের কম্বল, মশার কয়েল নিয়ে তাঁবু গেড়েছে। এত আগে আসার
কী দরকার? তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না, সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আমি পরিবহন
মালিক সমিতির নেতাদের অনুরোধ করেছি। তারা যেন গাড়ি বন্ধ না করে। তারাও বলেছে গাড়ি বন্ধ
করবেন না। ছাত্রলীগের সঙ্গেও যেন কোনো কিছু না ঘটে সেজন্য ছাত্রলীগের সম্মেলন এগিয়ে
আনা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পরপর সম্মেলনের কথা থাকলেও কভিড-১৯ মহামারির কারণে
সাড়ে চার বছর পর ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।
সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়
সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এবং ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি
সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এবার ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ এই
ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৪৫ জন নেতাকর্মী জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছে।
ঢাবি ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ
সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি
এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা হবে।










