টাঙ্গাইলের বাসাইলে জিওবি প্রকল্পের একটি সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের একদিন পরই ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার কাশিল বটতলা থেকে বাথুলীসাদী বাজারের মোড় পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি মধ্য রাত পর্যন্ত আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। পরদিন সকালেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্টরা তাড়াহুড়ো করে ফাটল বন্ধের চেষ্টা চালায়। 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাশিল বটতলা-বাথুলীসাদী সড়কের কাজ শুরু হয় প্রায় দুই মাস আগে। এলজিইডির অধীন সড়কটির নির্মাণকাজ পায় প্রগতি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি এখন প্রায় শেষের দিকে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢালাইকাজের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া প্রকৌশলী আব্দুল জলিলকেও কাজ তদারকে দেখা যায়নি। এ সুযোগে ঢালাইকাজে ব্যবহৃত হয় নিম্নমানের উপাদান। ফলে একদিনেই ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কে গাড়ি চলাচল শুরু হলে অল্পদিনেই ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী জানান, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন কাজ না করার কারণে ভেঙে গিয়েছিল। সম্প্রতি সড়কে আরসিসি ঢালাই ও সংস্কারকাজ শুরু হয়। তবে ঢালাইকাজে ব্যবহৃত উপাদান নিম্নমানের হওয়ায় একদিনেই ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কে গাড়ি চলাচল শুরু হলে অল্প দিনেই ভেঙে যাবে।

সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল জলিল। এ ঘটনার জন্য তিনি সিমেন্ট কোম্পানির ওপর দায় চাপিয়েছেন। বণিক বার্তাকে প্রকৌশলী আব্দুল জলিল বলেন, ‘এটা রেডিমিক্স দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। ঢালাইয়ের পর শুকালে কিছুটা চুলফাড়া দিতে পারে। পরে কিউরিং হলে ঠিক হয়ে যায়। যে কোম্পানির কাছ থেকে আমরা ঢালাই করেছি, এটা তাদের দায়িত্ব।’ 

স্থানীয় যুবলীগ নেতা রুবেল মিয়া জানান, একদিনেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সড়কের কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু। কাজটি হয়েছে নিম্নমানের। এ সড়ক দিয়ে ফুলকি ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের উপজেলা কালিহাতীর মানুষ যাতায়াত করে।

কাশিল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান জানান, কাশিল বটতলা-বাথুলীসাদী সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকত। দীর্ঘ সময় পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সড়ক সংস্কার ও আরসিসি ঢালাইয়ের কাজের কথা শুনে তারা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ করায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে মানুষ এখন ক্ষুব্ধ। এলজিইডির কর্মকর্তারা ঢালাইয়ের সময় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এখন তারা তড়িঘড়ি করে গ্যারাটিন ঢেলে ফাটল বন্ধের চেষ্টা করছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মো. মজনু মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সিমেন্ট কোম্পানির কাছ থেকে রেডিমিক্স দিয়ে ঢালাই করেছি। ঢালাইয়ের ৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি দিতে হয়। এটা টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা নয়। হালকা ফাটল দেখা দিয়েছে। পরে কোম্পানির লোকজন ফাটলে গ্যারাটিন দিয়েছে।’