সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। গতকাল সকাল থেকে বাগেরহাটের পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই বন অফিস থেকে মধু আহরণের অনুমতিপত্র (পাস) দেয়া শুরু হয়। অবশ্য প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণ শুরু হলেও এবার ঈদুল ফিতরের কারণে তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে মধু আহরণ।
তবে নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা শুরু হওয়ায় এবং অপহরণের ভয়ে মধু আহরণে মৌয়ালদের আগ্রহ অনেকটাই কম। এর মাঝে আবার বনদস্যুদের ভয়ে লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না মধু ব্যবসায়ীরাও। ফলে এবার মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেকটা কম বলে জানিয়েছে সুন্দরবন বিভাগ।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেক কম। প্রথম দিনে মাত্র ১৮টি নৌকা মধু আহরণের জন্য পাস নিয়েছে, যেখানে গত বছর ৩৩টি নৌকা পাস নিয়েছিল। পাসের সংখ্যা আশানুরূপ না হলে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বন বিভাগ। একই অবস্থা চাঁদপাই রেঞ্জেও। সেখানে প্রথম দিনে মাত্র নয়টি নৌকা পাস নিয়েছে।
মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনে নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা শুরু হওয়ায়, অনেকেই এবার মধু আহরণে যাবেন না। বনদস্যুর হাতে অপহৃত হলে মুক্তিপণ হিসেবে ২-৩ লাখ টাকা দিতে হয়। এ কারণে এবার অনেক মৌয়াল নৌকার পাস নেননি।
মধু ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৮ সালে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর সুন্দরবনে নির্ভয়ে মধু আহরণ করে আসছিলেন মৌয়াল ও অন্য বনজীবীরা। কিন্তু কয়েক মাস আগে কয়েকটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন করে সুন্দরবনে বনদস্যু তৎপরতা শুরু হওয়ায় এখন বনে ঢুকলেই চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা দিতে না পারলে বনজীবীদের অপহরণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব বলেন, ‘এবার সুন্দরবনে নতুন করে বনদস্যু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কোনো নৌকা যদি বনদস্যুদের কবলে পড়ে তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বন অফিসে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’










