লক্ষ্মীপুরে জাকির হোসেন নামে এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে শিশুটিকে মারধরের পাশাপাশি তার গায়ে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা এবং আঙুলে সুই ফোটানো হয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করেছে অভিযুক্তরা। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে চারদিন পর্যন্ত হাসপাতালেও নিতে দেয়া হয়নি।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে চর রমনী গ্রামের গোরফান, তার ছেলে দেলোয়ার হোসেন, মাকছুদ আলম, শাহ আলম, মনির হোসেন ও মনির নামে ছয় জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী (সদর) আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জুর আহমেদ তিতু।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু জাকিরের বাবা আলমগীরের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে আসামিদের পারিবারিক বিরোধ চলছে। বিরোধের জেরেই গত মঙ্গলবার সকালে শিশু জাকিরকে অভিযুক্ত শাহ আলমের ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। অভিযুক্তরা জাকিরকে চেয়ারের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। অভিযুক্ত দেলোয়ার ও তার বাবা গোরফান তার শরীরের বিভিন্ন জায়গার চামড়া প্লায়ার্স দিয়ে টেনে ক্ষতবিক্ষত করেন। এমনকি জ্বলন্ত সিগারেট তার গায়ে চেপে ধরেন তারা।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা জাকিরের আঙুলে সুই ফোটায় এবং চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে তারা শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যার চেষ্টাও করে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখান থেকে জাকিরকে উদ্ধার করা হলেও তাকে হাসপাতালে নিতে পারেনি পরিবার। নির্যাতনের আলামত নষ্ট করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চারদিন পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দিয়েছে প্রভাবশালী অভিযুক্তরা। পরে ঘটনার ৫ দিনের মাথায় শিশুটিকে গোপনে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোসলেহ উদ্দিন জানান, আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য থানায় দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানালেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।










