ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে আসার পর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। সোমবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীতে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই এডিস মশার উপদ্রব বাড়তে শুরু করেছে, যা ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরো অবনতির শঙ্কা তৈরি করেছে।
এ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এরই প্রেক্ষিতে উভয় সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিবছরই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্রাণহানি ঘটে, যা নাগরিক জীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও সতর্কতা অবলম্বন করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জমাকৃত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কীটনাশক, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে মশা নিধনের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেই ৩০০ গজ এলাকার মধ্যে কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে মশা নিধন অভিযান চালানো হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রতিবেদনে জানানো হয়, মশা নিধনে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মশা নিধন কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মী, সুপারভাইজার, যন্ত্রপাতি ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনসচেতনতা এবং প্রশিক্ষণের বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আরো জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব ধরনের পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের জীবন রক্ষায় কোনো ধরনের গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না।










