অবৈধভাবে সমুদ্র পথে ইতালি যাবার সময় মাদারীপুরের দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো একজন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শুরু হয়েছে শোকের মাতম।

নিহতরা হলেন রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২১) ও সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী (২০)।

স্থানীয় ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ ও সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগীসহ বেশ কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে গত বুধবার লিবিয়া থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় রওনা দেয় তারা। ৩২ জন ধারণ ক্ষমতার নৌকায় ছিলেন ৫২ জন অভিবাসন প্রত্যাশী। নৌকাটি তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পর মাঝ পথে ইঞ্জিন ফেটে যায়। এতে মামুন ও সজলসহ বেশ কয়েকজন মারা যান। পরে খবর পেয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টগার্ড। 

এ ছাড়া এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ পাশের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের পান্নু শেখের ছেলে আপন শেখ। 

নিহত মামুন শেখের বড় ভাই সজীব শেখ বলেন, মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুরদী গ্রামের বাদশা কাজীর ছেলে মোশারফ কাজী। তিনি প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৩-১৫ লাখ টাকা নেন। পরে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে পাঠালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় সজীব শখে বলেন , ‘আমি সরকারিভাবে আমার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার এবং দালাল মোশারফ কাজীর শাস্তির দাবি করছি।

নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনীল বৈরাগী বলেন, ‘নৌকা ডুবিতে প্রাণে বেঁচে যাওয়া একজন ফোন করে মামুন ও আমার ছেলে সজলের মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘জমি, গরু বিক্রি ও ঋণ ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে ইতালি যাওয়ার জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন সত্যি হলো না। সব স্বপ্ন সাগরে শেষ হয়ে গেল। আমরা একেবারে পথে বসে গেছি। এখন আমরা কী করবো? আমার ছেলের সঙ্গে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। এ ঘটনায় আমরা দালাল মোশারফ কাজীর কঠিন বিচার চাই।’

অভিযুক্ত দালাল মোশারফ কাজী লিবিয়ায় থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তার ছেলে যুবরাজ কাজীর ব্যবহৃত মোবাইল-ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।