মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারডুবি ঘটেছে। এতে চার শিশুসহ ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জের সীমানাবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে গজারিয়ায় রসুলপুরের ফুলদি ও দৌলতপুর এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জে ঘুরতে আসেন একই পরিবারের পাঁচজনসহ ১১ জন। সারা দিন ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে উল্টো দিক থেকে আসা বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায় তাদের বহনকারী ট্রলারটি। স্থানীয় বাসিন্দারা দূর থেকে দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারী ও শিশুসহ চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে ট্রলারচালক রফিকুল ইসলাম (৫০) ও মফিজুলসহ (৪০) আরো দুজন সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। তবে নিখোঁজ রয়েছে শিশু ইমাদ হোসেন (৫), মরোয়া (৯), জান্নাতুল মাওয়া (৬), জান্নাতুল ফেরদৌস (৪), সুমনা আক্তার (৩০) ও সাব্বির হোসেন (৪০)। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে মফিজুল (৪০), টিনা (৯), তাহিয়া (১০), সাফা (৪), নাইমা (৪৫) ও ট্রলারচালক রফিকুল ইসলামকে (৫৫)।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রসাশক আবু জাফর রিপন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের বেলায় বাল্কহেড চলাচল করার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারণ অনুসন্ধানে গঠন করা হয়নি কোনো তদন্ত কমিটি। নিখোঁজদের সন্ধানে আজ শনিবার সকাল থেকে মেঘনায় উদ্ধার অভিযান শুরু করবেন নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ ডুবুরি দলের সদস্যরা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, ‘বাল্কহেডটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে বৈরী আবহাওয়ায় মেঘনায় প্রবল স্রোত থাকায় রাতে ব্যাহত হয়েছে উদ্ধার অভিযান। ট্রলারডুবির ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকা করা হয়েছে।’

নৌ-পুলিশের নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, ‘আজ শনিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেবেন নৌ-পুলিশের ডুবুরি দলের সদস্যরা। নিখোঁজদের সন্ধান না মেলা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে অভিযান। এতে সহযোগিতা করবেন মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশের সদস্যরা।’

ফায়ার সার্ভিস মুন্সিগঞ্জের স্টেশনের কমান্ডার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছেন। তবে কারো মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। রাতের অন্ধকারে মেঘনায় প্রবল স্রোত থাকায় ব্যাহত হয়েছে উদ্ধার অভিযান। সকাল থেকে যৌথভাবে সন্ধান চলবে নিখোঁজদের।’

এর আগে গত ৫ আগস্ট রাতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মার শাখা নদীতে বালিবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর এক নারী, চারটি শিশু ও তিন যুবকসহ আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরদিন আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখনো একটি শিশু নিখোঁজ রয়েছে।