গোপালগঞ্জ সদরের ভেন্নাবাড়ী সম্মিলিত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বারবার নির্বাচিত সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী প্রেমচাঁদ বাকচীর মহাপ্রয়াণে তার বিদেহ আত্মার শান্তি কামনায় স্মরণসভা ও স্বজন-ভোজন গতকাল অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আনুমানিক সাড়ে ৪ হাজার জন অতিথি এ আয়োজনে অংশ নেন। এছাড়া অংশ নেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। প্রায় ২০০ জন বরেণ্য ব্যক্তির অংশগ্রহণে আলোচনা সভা শেষে সবাইকে মধ্যাহ্নভোজের আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় ধর্মগ্রন্থ গীতা ও ধর্মগ্রন্থ হরিলীলামৃত গ্রন্থের পাঠের মাধ্যমে। উক্ত স্মরণসভাটি বিভিন্ন দিক থেকে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এজন্য যে, এখানে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক মহামিলনমেলার সৃষ্টি হয়। বহু শ্রেণি-পেশার, ধর্মের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য শুনে উপস্থিত শ্রোতারা বিমোহিত হন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেন্নাবাড়ী সম্মিলিত মিলার (১১ গ্রামের সম্মিলিত সংগঠন) সভাপতি ভূপতি রঞ্জন বালা ও প্রধান অতিথির পদ অলংকৃত করেন জীবানন্দ কীর্ত্তনীয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রয়াত প্রেমচাঁদ বাকচীর জেষ্ঠ পুত্র আশিস কুমার বাকচী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিপুল কুমার মৌলিক, অপূর্ব গাইন, বিদুর কান্তি বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট উৎপল বিশ্বাস, সিনিয়র সহকারী সচিব পলাশ দেবনাথ, ডা. অসিত মল্লিক, প্রফেসর রঞ্জিত কুমার মজুমদার, প্রফেসর প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী, প্রফেসর ড. সন্তোষ কুমার ঢালী, প্রফেসর রসময় কীর্ত্তনীয়া ও সাবেক প্রধান শিক্ষক বিনোদ রঞ্জন গাইন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আশিস কুমার বাকচী ও শশাংক বর এবং দিকনির্দেশনা দেন বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস।

প্রয়াত প্রেমচাঁদ বাকচীর চার সন্তান। বড় মেয়ে স্মৃতি কনা বাকচী কর্ণ-কুসুম মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। ছোট মেয়ে হেলালী রানী বাকচী হাজী শরীয়তুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক। বড় ছেলে আশীষ কুমার বাকচী সরকারি নজরুল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। ছোট ছেলে শ্রী স্বাধীন বাকচী সরকারি ফকিরহাট কলেজের প্রভাষক।