আমদানি-রফতানিতে পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেড পিছিয়ে ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে। ২০০১ সালে প্রায় ৩০৯ একর জায়গা নিয়ে ইপিজেডটি পথচলা শুরু করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নাজুক। পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে পাকশী ঘুরে আসতে হতো ঈশ্বরদী রেল জংশনে। এতে পরিবহন ব্যয় বেশি হতো। ফলে উৎপাদতি পণ্য রফতানির ব্যয়ও বাড়ত। ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের অভাবে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে আনতে হতো পণ্য।

ইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ হিসেবে ঈশ্বরদী উপজেলার রেলগেট থেকে সিভিলহাট-তালতলা সড়ক দিয়ে ইপিজেডের পণ্য পরিবহন সহজ। ছয় কিলোমিটারের কিছু বেশি সড়ক মেরামত করলে পণ্য পরিবহনে ব্যয় কমত অর্ধেক। সড়ক ১০ ফুট প্রশস্ত হওয়ায় বালিবাহী ট্রাক ও ইপিজেডের পণ্য পরিবহনের বড় কার্গো ট্রাক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে এ সড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সড়কটি যখন চলাচলের উপযোগী ছিল, ইপিজেড থেকে ১৫০ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় রফতানি আয় কমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দাঁড়ায় ১২৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়িন ডলার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার রাজশাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটি সংস্কার ও বর্ধিতকরণের কাজ শুরু করে। কাজটি সম্পন্ন করার জন্য এলজিইডি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এরই মধ্যে কাজটির ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সৈকত হোসেন বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার যানবাহন ও ১০-১৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ঈশ্বরদী ইপিজেড, রূপপুর পারমাণিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য জেলায় যাওয়ার জন্য লিংক রোড হিসেবে রাস্তাটির গুরুত্ব অপরিসীম। দ্রুত কাজটি শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পাবনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এএইচএম রবিউল আওয়াল রিজভী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অতীতে মেরামতের চেষ্টা করেও অর্থাভাবে সম্ভব হয়নি। ইপিজেডের শ্রমিক-কর্মচারী ও তৈরীকৃত পণ্য পরিবহনের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের কাজ শেষ হলে রফতানি আয় বাড়বে।’