মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমসেরনগর রেলস্টেশনের কাছে ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লেগে তিনটি বগি পুড়ে
গিয়েছে। গতকাল বেলা ১টায় চলন্ত ট্রেনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের নামিয়ে দেয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় বেলা ১টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সিলেটের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এ সময় শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তখন চালক সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন থামিয়ে দিলে যাত্রীরা নিরাপদে সবাই নেমে যান। তারপর স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিছু সময় পর কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আসে। একে একে কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয় তারা। এরপর বিকাল ৪টায় কুলাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি বগি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে ট্রেনের অক্ষত বগিগুলো উদ্ধার করে শমসেরনগর স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এগুলো উদ্ধারের পর বিকাল সাড়ে ৪টায় সিলেটের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লা হারুন পাশা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পাওয়ার কার থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তদন্ত করে পরে বলা যাবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনে দায়িত্বরত ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের এটিএইচও আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, আমি ট্রেনের দরজায় ছিলাম হঠাৎ শুনি আগুন লেগেছে। তখন ট্রেন থামানো হলে নিরাপদে সব যাত্রী বের হন। এরপর মুহূর্তে ব্রেক শো থেকে পাওয়ার কারে আগুন ধরে যায় এবং তিনটি বগি পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে এ কমিটি তদন্ত রিপোর্ট দেবে।
জেলা প্রশাসন মীর নাহিদ আহসান, রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।










