ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন অর্থঋণ আদালত। ২০ বছরের পুরনো খেলাপি ঋণের সুদ মওকুফ সাপেক্ষে কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা নিয়েও ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান তা পরিপালন করেনি। অভিযোগ উঠেছে ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এক ধরনের গড়িমসি প্রদর্শন করেছে সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা। এ পরিপ্রেক্ষিতে শাখাটির উপমহাব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর আদেশের কপি পাঠানো হবে কিনা তা জানতে চেয়ে এ আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুজাহিদুর রহমান।

সোমবার আদালতের আদেশে (আদেশ নং-৪৮) বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ঋণখেলাপি মেসার্স খাজা স্টিল সাপ্লাইয়ার্সের স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন চৌধুরী। ২০২২ সালের ১০ মে ডিক্রিদার ব্যাংকঋণের বিপরীতে অনাদায়ী ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯০ টাকা থেকে সুদ মওকুফ করে ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯ টাকা তিন মাস গ্রেস পিরিয়ডে তিন বছরের মধ্যে ১১টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। দায়িক ঋণখেলাপি দীর্ঘ ১৫ বছর পূর্বে সুদ মওকুফ সুবিধা পেলেও ঋণ পরিশোধে কোনো সদিচ্ছা দেখাননি। পাশাপাশি দীর্ঘ এ সময়েও ডিক্রিদার ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ আদায়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অর্থঋণ আদালত চট্টগ্রামের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থ ফেরতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আবুল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি (নং-৫৯/০৫) জারি মামলা দায়ের করে। ব্যাংকের দাবি ছিল ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৩ দশমিক শূন্য ৯ টাকা। ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর সুদ মওকুফের আওতায় সোলে সূত্রে জারি মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। সুদ মওকুফ সুবিধা পেলেও দায়িকরা সোলেনামার শর্ত মোতাবেক সমুদয় টাকা পরিশোধ না করে অনিয়মিতভাবে মাত্র ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন।