রাজধানীতে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুগদা মেডিকেল কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আট বছর ধরে সরকারি মেডিকেল কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে হাসপাতাল ভবনে। ১৩ তলা ভবনেই শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনো আলাদা কোনো একাডেমিক বা প্রশাসনিক ভবন নেই মেডিকেলটির। তবে এবার ১০টি আলাদা ভবন পেতে যাচ্ছে মেডিকেল কলেজটি। সর্বশেষ একনেক সভায় ৫৮০ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে প্রকল্পটির বেশকিছু ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলে তা হ্রাসের পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। ফলে ৬৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব থেকে ৯৪ কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে। আগেও একবার প্রকল্পটি একনেক সভা থেকে ফেরত গিয়েছিল।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য ৫২৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ডিজাইন পরিবর্তন করে পুনরায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এরই আলোকে এ বছরের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, যার মধ্যে ১০টি ভবন নির্মাণ করা হবে। ২৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র ক্রয় করা হবে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে। সেই সঙ্গে থাকবে আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র।
সম্প্রতি প্রকল্পটি নিয়ে যাচাই কমিটির বৈঠক করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। সেখানে আসবাবের তালিকায় বেশকিছু অসংগতি থাকার কথা উঠে আসে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির পর্যালোচনা সভায়ও একই কথাচিত্র সামনে আসে। বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বেশকিছু মতামত দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—গাড়ি ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ৫৭ লাখ টাকা বাদ দেয়া। সেই সঙ্গে যানবাহনের তেল বাবদ ২০ লাখ টাকা, যান মেরামতে ১০ লাখ এবং ড্রাইভারের জন্য রাখা বরাদ্দ বাদ দিতে বলা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার আসবাবের জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা চাওয়া হলেও তা ‘অত্যধিক’ বলছে কমিশন। আর শিক্ষা উপকরণের জন্য ২ কোটি এবং মেডিকেল যন্ত্রপাতির যন্ত্র ২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাখার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া হয়।
তবে প্রকল্পের যেকোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জনকে অভ্যন্তরীণ গোপনীয় বিষয় বলে মন্তব্য করছেন মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মুস্তাফিজুর রহমান। আগেও প্রকল্পটি একনেক থেকে ফেরত এসছিল, এবারো অসংগতির বিষয় সামনে এসেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন আছে। আর এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক বিষয়।’
আগেরবার প্রকল্পটি একনেকে উঠলেও খেলার মাঠ না থাকায় তা ফেরত পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. সায়মা আখতার চৌধুরী। এবার প্রকল্পের মধ্যে খেলার মাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর নতুন এ প্রকল্পের আওতায় আসবাবপত্রের দাম নিয়ে অসংগতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার চায় টাকার যথাযথ ব্যবহার হোক। তাই সব প্রকল্পের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কমিটির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করা হয়। এটাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে এর জন্য প্রকল্প পাসে কোনো সমস্যা হবে না।’










