রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী আন্দোলন, চেম্বারে তালা ও রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর অবশেষে ছয় ডিন পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। নতুন ডিন নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পদাধিকারবলে উপাচার্য দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল সকালে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগপত্র নিজে লিখে নিয়ে এসে স্বাক্ষর সংগ্রহের চেষ্টা করেন। যদিও ডিনদের কাউকে ক্যাম্পাসে পাননি তিনি। এরপর রাতে তারা পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করা ডিনরা হলেন আইন অনুষদের আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক এএসএম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এসএম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এএইচএম সেলিম রেজা।

এ নিয়ে গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে ডিনরা তাদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।’

তবে আন্দোলনের কথা জানেন না বলে দাবি করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এসএম একরাম উল্ল্যাহ। তিনি বলেন, ‘আজ কী হয়েছে সেটা জানি না। তবে আমরা জানিয়েছি, আমরা দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক না।’

গতকাল সকালে রাকসুর জিএস আম্মারসহ কিছু শিক্ষার্থী ডিন ও আওয়ামীপন্থী কয়েকজন শিক্ষকের চেম্বারে যান। তবে এ সময় তারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিনদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ সব দপ্তরের কার্যালয়েও তালা দেয়া হয়।

এ নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ মোটামুটি সব দপ্তরে আওয়ামীপন্থীদের দপ্তরগুলো তালাবদ্ধ। আমিও এটাই চাই, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকুক। সাথে সাথে একটা তালিকা করেছি বিগত জুলাইয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান করা শিক্ষকদের। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও অন্যান্য সংগঠনের কাছে থাকা তালিকাও আহ্বান করছি অনুগ্রহপূর্বক। আমার তালিকায় অনেকে বাদ পড়তে পারে, সেটা আপনাদের থেকে সংগ্রহ করব আগামী তিনদিনের মধ্যে।’

এ সময় ডিনরা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত জানান আন্দোলনকারীরা। পরে বিকালে প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক হয়। রাতে আরেক দফায় বৈঠক হয়। এ সময় পদত্যাগের ঘোষণা দেন ডিনরা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতি, ডিন, সিন্ডিকেট, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি ও শিক্ষা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১২টি অনুষদের ডিন নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী হলুদ প্যানেল থেকে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছিল ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু উপাচার্য ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিনদের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার এ ছয় ডিনের পদত্যাগের দাবি জানান রাকসুর জিএস। অবশেষে তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।

ডিনরা পদত্যাগ করার আগে রাকসুর সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলছিলেন, ‘আমরা চাই না আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এ ছয়জন ডিন পদে থাকার যোগ্যতা রাখেন না। এটি জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’

রাবি সিনেট সদস্য আকিল বিন তালেব বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে যে পরিবর্তন ও তথাকথিত বিপ্লবী প্রশাসন গঠিত হয়েছে, তাদের কাছে আমরা বারবার আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। এখ পর্যন্ত লক্ষ করছি, আওয়ামীপন্থী অনেক ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন।’