অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ওলকচু চাষ। ওলকচু সুস্বাদু ও পুষ্টিগণসম্পন্ন হওয়ায় বাজারে এ সবজিটির চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। ওলকচু চাষে খরচের তুলনায় লাভ হয় প্রায় ৪ গুণ। এ ফসল পতিত জমিতেও চাষ করা যায়। কৃষি বিভাগের উন্নত জাতের কন্দাল ফসল চাষ প্রকল্পের আওতায় এবার জেলার জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলার চাষীরা ওলকচু চাষ করছেন। 

সদর উপজেলার কোমর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে কন্দাল ফসল চাষ প্রকল্পের আওতায় আমি এবার বৈশাখ মাসের শেষের দিকে ২০ শতক জমিতে ওলকচু চাষ করেছি। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার ও ওষুধ প্রয়োগ, বীজ বপন, জমির পরিচর্যা ও সেচসহ এ পর্যন্ত আমার খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ফসল ওঠা পর্যন্ত আরো অন্তত ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। সব মিলে ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে। বীজ বপনের ৭-৮ মাসের মধ্যেই এ ফসল ওঠে। অগ্রহায়ণ বা পৌষ মাসের মাঝামাঝি এর ফসল তুলতে পারব। ২০ শতক জমিতে আমি ওলকচুর বীজ বা কন্দাল বপন করেছি ৪৫০টি। এর মধ্যে ৫০টি চারা মরে গেলেও থাকবে ৪০০টি। প্রতিটি গাছ থেকে ৬-৮ কেজি পর্যন্ত ওল পাওয়া যাবে। সে হিসেবে আমার ফলন হবে ২ হাজার ৪০০ কেজি। ওলকচুর খুচরা বাজার দর প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা। পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। সে হিসেবে পাইকারিতে বিক্রি করলেও আমি এ ওলকচু বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পাব। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে আমার লাভ থাকবে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। এমন লাভের সম্ভাবনা থাকায় আগামীতে এ এলাকায় ওলকচুর চাষ আরো বাড়বে।  

জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নত জাতের কন্দাল ফসল চাষ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী প্লট হিসেবে সদর উপজেলায় বেশকিছু কৃষক এবার ওলকচু চাষ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সদর উপজেলার ধলাহার ইউনিয়নের ধলাহার গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ, আমদই ইউনিয়নের কিন্দুল গ্রামের কৃষক সাগর বর্মণ এবং বম্বু ইউনিয়নের কোমর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, ওলকচু সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতারাও পছন্দ করেন এ সবজিটি। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় কৃষক গাছপ্রতি ৭-১০ কেজি পর্যন্ত ওলের ফলন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাজারে ওলকচুর পাইকারি দামও ভালো।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কায়সার ইকবাল বলেন, ওলকচু চাষে খরচ হয় নামমাত্র। কিন্তু লাভ হয় তিন থেকে চার গুণ। এ ওলকচু এমন একটি ফসল যাতে পোকা-মাকড়ের বালাই নেই, রোগবালাই কম। অনাবৃষ্টি বা খরার কবলে না পড়লে সেচের প্রয়োজন হয় না। এমনকি গরু, ছাগলেও এ গাছ খায় না। পরিত্যক্ত আধা ছায়া জমিতেও এটি হয়। অবশ্য রোদযুক্ত স্থানে লাগানো গেলে ফলন ভালো হয়। বাজার দর কম থাকলে, ফসল না তুললেও ক্ষতি হয় না বরং দেরিতে তুললে ফলন আরো বাড়ে। আলু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না তুললে জমিতে পচে নষ্ট হয়। কিন্তু ওলকচু মাটির নিচে থাকলে আকারে বড় হয় কিন্তু নষ্ট হয় না। এজন্য ওলকচু চাষে লোকসানের কোনো আশঙ্কা নেই। যারা কৃষিকাজে নতুন আসছেন, তাদের জন্যও ওল চাষ নিরাপদ। তাই জয়পুরহাটের কৃষকের ওলচাষে আগ্রহী করার জন্য কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা করছে।