রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনাগুলো ঘটে।
আহতরা হলেন—ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান ও শাহাদাৎ হোসেন এবং আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মুহাইমিনুল ইসলাম নুহান ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরুখ মাহমুদ।
জানা যায়, ঘটনার শুরু গত বছর রমজান মাসে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তবে অন্যপক্ষের দাবি, গত বছর ফিন্যান্স বিভাগের ইফতার মাহফিলে কাইয়ুম মিয়াকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ছাত্রলীগ নেতা সাধন মুখার্জি ক্ষিপ্ত হন ও শাহাদাৎ হোসেনকে মারধর করেন। এরপর সাধন মুখার্জি ক্যাম্পাস ছাড়েন। সম্প্রতি তিনি মাস্টার্সের পরীক্ষা দিতে ফিরে ছাত্রদল নেতা শাহরুখ মাহমুদের আশ্রয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন।
এর জেরে গত সোমবার রাতে কাজলায় সাধন মুখার্জিকে মারধর করেন ফিন্যান্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে এর প্রতিবাদে আইন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আবার আসিফুর রহমানকে হুমকি-ধামকি দিতে যান।
এ ঘটনার সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে টুকিটাকি চত্বরে শাহাদাৎকে মারধর করেন ছাত্রদল নেতা শাহরুখসহ আইন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। শাহাদাৎকে বাঁচাতে গেলে তার বন্ধু আসিফুর রহমানও মারধরের শিকার হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যেখানে আসিফুর ও নুহান আহত হন। তাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয়।
দুপুর ২টার দিকে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবল নিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে নুহানের সঙ্গে থাকা শাহরুখ মাহমুদকে মারধর করেন। প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে নুহান ও শাহরুখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর শাহাদাৎ ও আসিফুরকেও একই হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে আইন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা চালায় এবং অ্যাম্বুলেন্স চালককেও মারধর করে।
এই ঘটনার পর আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরের ছাত্রত্ব বাতিলসহ কয়েক দফা দাবিতে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আহত শিক্ষার্থী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, গত বছর রমজানে ইফতার মাহফিলে বাধা দেয়ায় সোমবার ক্যাম্পাসে সাধনকে পেয়ে তারা কথা বলতে যান। এ সময় এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এরপর আজ ছাত্রদলের ছেলেরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
আরেক আহত শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের দোসরকে বাঁচাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এর আগে সোমবার রাতেও তারা আমার বাসার সামনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা করে। আজ আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে হামলা চালায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
আহত ছাত্রদল নেতা শাহরুখ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সাবেক সমন্বয়ক আকিল বিন তালেব বলেন, গত রাতের ঘটনার তার কিছু জানা নেই।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাধন মুখার্জি বলেন, ২০১৪ সালে এক নারী শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার ঝামেলা হয়েছিল। পরে তিনি পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে গেলে সোমবার তার ওপর হামলা হয়। এরপর তিনি বাড়ি চলে যান। পরবর্তী ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু ও ফিন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শিবলি সাদিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী জানান, ঘটনাটি ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে ছাত্রদলের কেউ আইন হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।










