ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের ভাতকাঠি গ্রামের খেয়াঘাট এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ না পেরোতেই ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই কালভার্ট ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষে, বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টটি নির্মাণ করার সময় অনিয়ম করার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন ও সোহরাব সিকদার অভিযোগ করে বলেন, বড়ইয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রুবিনা নামমাত্র রড-সিমেন্ট দিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে এ কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। পেশাদার নির্মাণ শ্রমিক না নিয়ে তার নিজের বাবা কবির হোসেন ও ব্যক্তিগত সহকারী সিদ্দিককে দিয়ে কালভার্টটি নির্মাণ করিয়েছেন তিনি। আগে ওই জায়গায় মোটা প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তার ওপর মাটি দিয়ে স্থানীয় লোকজন, হালচাষের গরু ও ট্রাক্টর যাতায়াত করত। পরে সেখানে কালভার্ট করলেও পরিমাণমতো রড-সিমেন্ট না দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন নারী ইউপি সদস্য রুবিনা।
নবনির্মিত কালভার্টটি ভেঙে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। বর্তমানে গরু ও ট্রাক্টর নিতে না পেরে প্রায় কয়েকশ একর জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষক। বেশি স্রোত থাকায় ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করতে নিষেধ করা হলেও রুবিনা তা আমলে না নিয়ে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। অপরিকল্পিতভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারের টাকা এভাবে নষ্ট করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য রুবিনা সংবাদ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘বরাদ্দ কম পাওয়ায় অল্প টাকায় বক্স কালভার্টটি নির্মাণ করার কারণে তা পানির স্রোতে ভেঙ্গে গেছে। পরিষদে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওই জায়গায় আবারো টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করে দেব।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন, ‘ভাতকাঠি খেয়াঘাট এলাকার বক্স কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। ওখানে আবার বরাদ্দ দিয়ে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।’










