মাদারীপুর জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান দুই নদ-নদীর একটি পদ্মা, অন্যটি আড়িয়ল খাঁ। যেকোনো নদ-নদী থেকে বালি উত্তোলনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। তবে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় আড়িয়ল খাঁ নদ থেকে অনুমতি ছাড়াই বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভাঙনের মুখে পড়েছে নদের তীরবর্তী কৃষিজমি ও স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে তীরবর্তী তিন গ্রামের মানুষ।

নদের তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের চর হোগলপাতিয়া গ্রামে আড়িয়ল খাঁ নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করা হয়। যার প্রভাব পড়ছে উপজেলার ১০-১৫টি গ্রামের ওপর।

সরজমিনে দেখা গেছে, নদের মাঝখানে ও কূল ঘেঁষে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন বসানো। এর প্রতিটি মেশিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একেকটি বাল্কহেড। প্রতিটি বোটে ১০-১২ জন লোকের পাহারা। হোগলপাতিয়া এলাকায় নদের কূল ঘেঁষে তিনটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে তা বাল্কহেডের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। শুধু গ্রামই নয়, জেগে ওঠা চরে রয়েছে শত শত হেক্টর কৃষিজমি। বালি উত্তোলনের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে কৃষিজমি।

সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বালি উত্তোলনের কারণে আমাদের ঘরবাড়ি কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়েছে। এখন পরের জমিতে ঘর তুলে বাস করছি। যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। যে জমিজমা ছিল সেগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব মণ্ডল, রবি মণ্ডল, আলিম আকন, সিরাজুল হাওলাদার, মকসেদ আকন, ইলিয়াস আকন, লালমিয়া হাওলাদারসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমাদের তিন কানি জমি ছিল। এর মধ্যে দুই কানি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের ছাড়াও অন্যান্য মানুষের ফসলি জমিও বিলীন হয়ে গেছে।’

সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের চর হোগলপাতিয়া গ্রামের ইলিয়াস আকন বলেন, ‘নদ এক সময় আরো দূরে ছিল। বালি উত্তোলনের কারণে ধীরে ধীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন প্রায় আধা মাইল পর্যন্ত চলে এসেছে। হুমকির মুখে রয়েছে তীরবর্তী গ্রাম।’

একই এলাকার রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, ‘প্রতিদিন একটু একটু করে নদের পাড় ভাঙছে। মূলত বালি উত্তোলনের কারণে সব সময় ভাঙন আতঙ্কে থাকতে হয়।’

নদীভাঙনে আটবার বসতভিটা হারিয়েছেন হোগলপাতিয়া গ্রামের কৃষক জলিল ব্যাপারী ও মকসেদ আকন। তারা জানান, প্রতি বছর ভাঙলেও এবার ভয়াবহতা বেশি। প্রতিদিনই নদে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ এলাকা।’

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া সাবাব বলেন, ‘নদী থেকে বালি উত্তোলন করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। বালি উত্তোলনকারীরা প্রশাসনের কথা বলে সুবিধা নিতে চায়। যারা বালি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’