লিচু উৎপাদনে দিনাজপুরের খ্যাতি রয়েছে। সুগন্ধি কাটারি ও চিনিগুঁড়া ধানের জন্যও বিখ্যাত এ জেলা। এছাড়া কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে গম, ভুট্টা ও আলু আবাদ হয়। ২০১৫ সালে এসবের সঙ্গে যুক্ত হয় বিলাস পণ্য চা। এর পর থেকেই বাড়ছে চা বাগান। সবশেষ বাগানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৫ হেক্টর। বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর ও কাহারোল উপজেলায় এসব বাগান গড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
২০১৫ সালে পঞ্চগড়ের একটি নার্সারি থেকে ছয় হাজার চারা কিনে নিজের দেড় একর জমিতে চা বাগান করেন নজরুল ইসলাম। রোপণের ছয় মাস পরই বাগান থেকে ৫০ কেজি চা পাতা সংগ্রহ করেন। এক বছরের মধ্যে তিনি ওই জমি থেকে এক হাজার কেজি পাতা সংগ্রহ করেন। চা পাতা পঞ্চগড়ের একটি কারখানায় ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
বীরগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুর গ্রামের কৃষক নোমান ফারুকুল ইসলামও তিন একর জমিতে গড়ে তুলেছেন চা বাগান। তিনি জানান, গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতীরে তার জমি। পানি আটকানো যায় না। ধান ভালো হয় না। সারা বছর বলতে গেলে পতিত থাকত। সে জমিতে চা বাগান করেছেন। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন নিজের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে। যাদের অনেকেরই চা বাগান রয়েছে পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারীতে।
চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে মরিয়ম চা বাগান। বাগানের মালিক এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘২০২০ সালে চা বাগান শুরু করেছি। প্রথমে পাঁচ একর জমিতে, বর্তমানে এর আকার বেড়ে ১০ একর হয়েছে।’
আতিকুর রহমানের দেখাদেখি পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণভিটা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ আট একর, জয়নাল আবেদীন তিন একর ও রফিকুল ইসলাম এক একর জমিতে চা বাগান করেছেন। তারা জানান, যদিও চা বাগান করে ধান চাষের মতো লাভ হয় না, কিন্তু ঝামেলা কম। ধানের প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায় না, ভালো বীজের অভাব, শ্রমিকের মজুরি বেশি, সার-কীটনাশক খরচও বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই। তবে চা চাষে এসব বিড়ম্বনা নেই। এতে নিজের লাভ কম হলেও শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।’
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলার সমতল ভূমিতে চা বাগান গড়ে তুলছেন কৃষক। এর পরিধিও বাড়ছে। তাছাড়া ধান বা অর্থকরী ফসলের মতো চা এখনো লাভজনক হয়ে ওঠেনি। দিনাজপুর দেশের মধ্যে অন্যতম খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী জেলা। দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদার একটি বড় অংশ আসে এখান থেকে। খাদ্যনিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কৃষকদের চা চাষে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’










