মাদারীপুর শহরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শহরের অধিকাংশ বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের মিটারের ইউনিটের সঙ্গে বিলের অংকের হিসাব মেলে না। গ্রাহকদের অভিযোগ, মাদারীপুরের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কর্মীরা বাসাবাড়িতে গিয়ে মিটার না দেখেই অফিসে বসে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করে গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করেন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পান না বলে গ্রাহক অভিযোগ করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, কারিগরি ও কর্মী সংকটের কারণে অনেক সময় বিল প্রস্তুতে সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে সমাধানও তারা করে দিচ্ছেন।
মাদারীপুর শহরের চরমগুরিয়া এলাকার বাসিন্দা অজয় কুণ্ডু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাসার বিদ্যুতের মিটারে ২৫০ টাকা বিল উঠেছে। কিন্তু ওজোপাডিকোর কর্মীরা আমার বাসায় ৪০০ টাকার বিল করেছেন। পরে আমি বিদ্যুৎ অফিসে এসে অভিযোগ করলে তারা আমার বিল পরের মাস থেকে সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রশ্ন হলো মিটার না দেখেই কেন মনগড়া বিল তৈরি করে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’
পৌর শহরের বাসিন্দা আজাহার উদ্দিন লেন, ‘আমার বাড়িতে একটি নতুন মিটার সংযোগ দিয়েছি। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের কেউ এসে মিটার চেক না করেই ১৮০ ইউনিটের একটি অযৌক্তিক বিল দেয়া হয়েছে। এর আগেও আমার পুরনো আরেকটি মিটারে অনেক ভুয়া বিল তৈরি করে দিয়ে গেছেন তারা।’
কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মাহবুবর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘মাদারীপুর শহরের ওজোপাডিকোর কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোনো বাসাবাড়িতে আসেন না। অফিসে বসে পুরনো বিল দেখে অনুমাননির্ভর নতুন বিল তৈরি করে গ্রাহকের বাড়িতে পাঠান। এতে আমাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আমার নিজের নামেই একটি অস্বাভাবিক বিল তারা প্রস্তুত করেছেন। এসব হয়রানি থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুর ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান অস্বাভিক বিল প্রস্তুতের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘যেসব গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ করেছেন, আমরা তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে দিই। কারিগরি ত্রুটি ও কিছু কর্মী সংকটের কারণে অনেক সময় বিল প্রস্তুত করতে ছোটখাটো ভুল হয়।’










