ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসসহ আশপাশ এলাকার ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিমের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রক্টরিয়াল টিমের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। অভিযোগ যাচাই করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্টরিয়াল টিমের বিরুদ্ধে যেকোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কমিটির কাছে পেশ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাবেক সহকারী প্রক্টর মো. মাকসুদুর রহমানকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর লিটন কুমার সাহাকে সদস্য সচিব করে গঠিত তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য হলেন রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষক দিলারা জাহিদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব লিটন কুমার সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আজকেই আমাদের কাছে চিঠি এসেছে। দ্রুতই আমরা বসে সঠিক ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে নির্দোষ কেউ যেন শাস্তি না পায়। আবার কোনো অপরাধীও যেন রেহাই না পায়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’ তিনি এর বাইরেও কারো কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করার মাধ্যমে তদন্তে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে তিন শতাধিক অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে বছরে ৫০ লাখ টাকার অধিক চাঁদা আদায় করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কতিপয় সদস্য। ঢাবি ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকার তিন শতাধিক ভাসমান দোকান থেকে মাসিক ও দৈনিক হারে বিভিন্ন পরিমাণে চাঁদা নেয় প্রক্টরিয়াল টিমের কেউ কেউ। চাঁদাবাজির এ টাকা তোলে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি। ওই টাকায় ভাগ বসান প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা থেকে সর্বনিম্ন পদের কর্মচারীও। বার্ষিক এ চাঁদার পরিমাণ ৪৮ লাখ টাকারও বেশি। এ টাকা শুধু স্থায়ী ভাসমান দোকানগুলো থেকে নেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন দিবসে আসা হরেক রকমের দোকান থেকে নেয়া হয় বিশেষ চাঁদা।

অভিযুক্তদের একজন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমার যা বলার কমিটিকেই বলব। আমার জায়গা থেকে আমি শতভাগ সঠিক। আশা করি নির্দোষ প্রমাণিত হব।’