ঝালকাঠি সদর উপজেলার ছত্রকান্দা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে ১৭ জন নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাসের চালক মোহন খানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রাতে তাকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২৬ জুলাই) দুপুরে কারওয়ানবাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোহনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানান র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান,  র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৮ এর একটি দল গত রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক বাস চালক মোহন খানকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বাস চালক দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। এর আগে বাসের সুপারভাইজার ফয়সাল ওরফে মিজানকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে,  মোহন গত ২২ জুলাই সকালে বাশার-স্মৃতি পরিবহনের বাসটি নিয়ে ভান্ডারিয়া থেকে বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাত্রা শুরু করে। ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্টপেজ হতে বাসটিতে আরো যাত্রী উঠানো হয় এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাতে থাকে। পরবর্তীতে সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে ঝালকাঠির ছত্রকান্দা নামক স্থানে পৌঁছালে গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অতিরিক্ত গতির কারণে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের পুকুরে গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়।

র‌্যাব জানায়, মোহন ৩ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালাচ্ছিল। তার হালকা যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নেই। এছাড়াও বাশার-স্মৃতি পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৬৫৪৯, যাত্রী ধারণ ক্ষমতা-৪৫ সিট) ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকলেও গাড়ির ফিটনেস ভালো ছিল না। দুর্ঘটনার পর মোহন কৌশলে পালিয়ে যায়। ঝালকাঠি, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় তার বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিল।