উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে সে সময় বৃদ্ধির হার ছিল অনেকটা কম। গত দুদিনে পানি বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। নদীর তীরবর্তী কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুরে চর ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যমুনার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আপাতত বন্যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। ১২ আগস্ট সকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৫ সেন্টিমিটার। কাজিপুর পয়েন্টে বৃদ্ধি পায় ১৪ সেন্টিমিটার। ১৩ আগস্ট পানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কম ছিল। এদিন সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পায় ছয় সেন্টিমিটার করে। ১৪ আগস্ট থেকে আবারো বৃদ্ধি পেতে থাকে। এদিন সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৯ ও কাজিপুর পয়েন্টে বৃদ্ধি পায় ২৪ সেন্টিমিটার। ১৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৯ এবং কাজিপুর পয়েন্টে বৃদ্ধি পায় ২২ সেন্টিমিটার। গতকাল এ দুই পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পায় ২৩ সেন্টিমিটার করে। অর্থাৎ গত ছয়দিনে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৯৭ ও কাজিপুর পয়েন্টে ১০৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৪৩ এবং কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (পুর) মো. নাজমুল সোহাইন জানান, গত কয়েক দিন যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা খুবই কম। এছাড়া কোথাও নদীভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘উজানে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনার পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির এ ধারা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই। আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই। তার পরও আমরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি।’










