বরিশাল নগরের সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয় সিটি করপোরেশন। তবে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। নগরীর ২০টির অধিক সড়ক খুঁড়ে রাখা হলেও কাজ শেষ করা হয়নি। এসব সড়কে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। অপরিকল্পিত খাল খননের কারণে ভেঙে গেছে কিছু সড়ক। বর্ষার আগে সড়কগুলো নির্মাণ ও মেরামত শেষ না করলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে নগরবাসীকে। এ দুর্ভোগের জন্য সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের দায়ী করেছেন নগরবাসী। অবশ্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষার আগেই কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারদের চিঠি দেয়া হয়েছে। অন্যথায় কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।
নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড সংলগ্ন কাজীপাড়া সড়ক সংস্কার চলছিল। তবে একপাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় সড়কটি প্রশস্ত করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে গত সপ্তাহে উচ্ছেদের চেষ্টা করে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে এ কাজে বাধা দেয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উন্নয়নকাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘আমরা দ্রুত সড়কের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। কারণ সড়ক প্রশস্ত না করলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।’
এর চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা নগরীর হযরত কালু শাহ সড়কটির। বেশ কয়েক মাস ধরে খুঁড়ে ফেলে রাখায় এখন কর্দমাক্ত হয়ে গেছে সড়কটি। এ অবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জিএম আতায়ে রাব্বি বলেন, ‘কালু শাহ সড়কের মাথা থেকে মিরা বাড়ির পুলের আগ পর্যন্ত সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে কাদা জমে সেখান দিয়ে চলাচল করা যায় না। বর্ষার আগে সড়কটি মেরামত শেষ না করলে চলাচলই বন্ধ হয়ে যাবে।’
একই অবস্থা নগরীর নিউ সার্কুলার রোড গাজী বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণ দিকের শাখা সড়কের। সড়কটির সংস্কার প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় ড্রেন ও সড়ক নির্মাণ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা জমে ড্রেন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যে ইট বিছানো হয়েছিল তা সরে গেছে। ড্রেন করার জন্য যে কাঠের কাঠামো করা হয়েছে তাও ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। এখনই সংস্কার শুরু না করলে বর্ষায় দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর গোরস্তান রোড, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর সড়ক, নতুন বাজার সংলগ্ন খালপাড় সড়ক, হরিণাফুলিয়া, পোর্ট রোড, জিয়া সড়কসহ এক ডজন সড়ক নির্মাণ শুরুর পর ফেলে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া খাল খননের সময় কাঁচা ও পাকা সড়ক ভেঙে পড়লেও সংস্কার করেনি নগর কর্তৃপক্ষ।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্ষার আগেই দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারদের চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা এর মধ্যে কাজ শুরু না করলে কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। নগরীতে এখন যেসব সড়ক সংস্কারকাজ চলছে, তা আগের কাজ।’










