চাঁদপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের আটটি পদের মধ্যে ছয়টিই শূন্য। এ অবস্থায় গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন-শ্রেণী পেশার মানুষ বই ও পত্রিকা পড়তে আসেন। তাদের যথাযথ দেখভাল করা সীমিত জনবল দিয়ে প্রায় অসম্ভব। এতে গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গণগ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবস্থানগত কারণে আগের চেয়ে পাঠক কিছুটা কমেছে। শহরের কেন্দ্রে যখন সরকারি গণগ্রন্থাগার ছিল তখন পাঠকসংখ্যা দ্বিগুণ ছিল। তবে বর্তমান গণগ্রন্থাগারটির বর্তমান পরিবেশ খুবই পাঠোপযোগী। কোলাহলমুক্ত হওয়ায় পাঠকের আগ্রহ আরো বাড়ার কথা থাকলেও জনবলের অভাবে তেমন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রন্থাগারটির আট পদের মধ্যে ছয়টিই শূন্য। বেশ কিছুদিন এভাবেই কার্যক্রম চলছে। সংযুক্ত একজনসহ মোট তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সরকারি এ গণগ্রন্থাগারের কার্যক্রম। ফলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। জনবল কম থাকায় বই পড়তে গিয়ে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়েন পাঠক। দুজন ছাড়াও সংযুক্ত হিসেবে আরো একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে লাইব্রেরিয়ান পদে রাফিয়া সুলতানা কর্মরত আছেন। সহকারী লাইব্রেরিয়ান উম্মে রায়হানা ফেরদৌস আছেন। তার পদ এখানে না থাকলেও তিনি সংযুক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অফিস সহায়ক পদে একজন কাজ করছেন। এর বাইরে শূন্য পদগুলো হচ্ছে জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান, ক্যাটালগার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, লাইব্রেরিয়ান অ্যাসিস্টেন্ট, বুক সটার ও অফিস সহায়ক।
অফিস সূত্রে জানা যায়, গণগ্রন্থাগারটির ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চাঁদপুর শহরের উপকণ্ঠে বিটি রোড এলাকায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের তিনতলাবিশিষ্ট জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এটি উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গ্রন্থাগারটিতে পাঠকক্ষ রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে সাধারণ, রেফারেন্স ও একটি শিশু পাঠকক্ষ রয়েছে। মিলনায়তন রয়েছে একটি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ, শেখ রাসেল ও জব কর্নার রয়েছে। বইয়ের সংখ্যা আছে ২৮ হাজার ১৬০টি। নয়টি জাতীয় বাংলা দৈনিক, দুটি স্থানীয় দৈনিক ও একটি জাতীয় ইংরেজি পত্রিকা ছাড়াও সাময়িকী রয়েছে ছয়টি। এর আওতায় নিবন্ধিত বেসরকারি গ্রন্থাগার রয়েছে ১৮টি। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ইউনিট রয়েছে একটি। নিবন্ধিত পাঠকসংখ্যা রয়েছে ৪৪।
লাইব্রেরিয়ান রাফিয়া সুলতানা জানান, শূন্যপদগুলো পূরণ হলে কার্যক্রম চালাতে আরো সুবিধা হতো। সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদ এখানে নেই, তবে সংযুক্ত হিসেবে একজন দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জনবল সংকট থাকলেও পাঠক সেবার মান বজায় রাখতে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।










