অন্যান্য বছরে শীতের শুরুতে মাসে ১৫ হাজারেরও অধিক পর্যটক খাগড়াছড়ি ভ্রমণ করে। এবার তাতে ভাটা পড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত পর্যটক নেই জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোয়। এজন্য হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিকেই দুষছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

হোটেল-মোটেল মালিকরা জানান, দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকশূন্য হয়ে আছে সবকটি পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। এজন্য ফাঁকা থাকছে হোটেল-মোটেলও। এতে একদিকে যেমন মৌসুম শুরুতে পর্যটক হারাচ্ছে, তেমনি লোকসান গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে পর্যটকদের চলাচলে হরতাল অবরোধমুক্ত রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা। সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে এক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের কর্মচারীরা জানান, এখন তাদের ব্যস্ততা আগের মতো নেই। এমন অবস্থা চলছে বেশ কিছুদিন। অলস সময় পার করছেন তারা। মৌসুমের শুরুতে এমন অবস্থা হওয়ায় টিকিট বিক্রি করতে পারছেন না। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

জেলা পরিষদ পার্কের টিকিট কাউন্টার ব্যবস্থাপক সাইফুল জানান, জেলার বাইরের পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও পার্কে ঘুরতে আসছেন না। এ কারণে পার্কটি দর্শনার্থীশূন্য। মাঝেমধ্যে ২০, ৫০ ও ৭০ জনের মতো পর্যটকের দেখা মেলে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পার্কে গড়ে প্রায় এক হাজারে অধিক পর্যটকের সমাগম ঘটত। মাঝেমধ্যে এর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়। কিন্তু গত কয়েকটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও পার্কে দর্শনার্থীর ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল না।

একই অবস্থা পর্যটনসংশ্লিষ্ট পরিবহন খাতের। অবরোধ চলাকালীন যাত্রী ও পর্যটক না থাকায় গাড়িও চলছে না। এতে অনেকটা হতাশ পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা।

সাজেক কাউন্টারের লাইনম্যান মো. আরিফ জানান, যেখানে অন্যান্য সময় দৈনিক ৫০-৭০টি পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাঁদের গাড়ি চলাচল করত, সেখানে মাঝেমধ্যে চার-পাঁচটি গাড়ি চলাচল করছে। লোকসান ঠেকাতে হরতাল-অবরোধেও পর্যটক চলাচলে সহায়তা চান তারা।

বছরের এই সময়ে পর্যটকে মুখর থাকে খাগড়াছড়ি। এবারের চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন পর্যটকরা। এভাবে চলতে থাকলে ধারদেনা করে দিন পার করতে হবে বলে জানান হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে কয়েক দফায় বুকিং বাতিল হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনের যেসব বুকিং তাও বাতিল হচ্ছে।’

প্রশাসন বলছে, সম্মিলিতভাবে জনগণকে সচেতন করে খাতসংশ্লিষ্টরা এগিয়ে এলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। সময় নির্দিষ্ট করে প্রয়োজনে আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি ব্যবস্থার নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিবহন চালক-শ্রমিকরা এগিয়ে এলে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো পাহারা দিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে আনানেয়া করবে পুলিশ। এভাবে সহায়তাও দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবহনগুলো ছাড়তে পারলে সবার সুবিধা হয়।’

জেলা প্রশাসক সহিদুজ্জামান বলেন, ‘সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে অভ্যন্তরীণ ছাড়াও দূরপাল্লার গাড়িগুলো চলাচলে সব রকমের সহায়তা করা হবে। প্রয়োজনে পর্যটকদের ক্ষেত্রে জেলার বাইরে অন্য জেলাগুলোর সঙ্গে কথা বলবে প্রশাসন।’