বণিক বার্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী নবম নন-ফিকশন বইমেলা শেষ হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যার পর তিন দিনব্যাপী এ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। আরো উপস্থিত ছিলেন কথাপ্রকাশের প্রকাশক জসিম উদ্দিন ও প্রথমা প্রকাশনের প্রতিনিধি এবং প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ।
বণিক বার্তার বিশেষ সংবাদদাতা মো. বদরুল আলমের সঞ্চালনায় বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ সূচনা বক্তব্য দেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, নন-ফিকশন বই কেবল তথ্য দেয় না। নন-ফিকশন বই চিন্তা তৈরি করে, প্রশ্ন তোলে, যুক্তি শেখায় এবং সমাজকে বুঝতে সাহায্য করে। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু জ্ঞান ঘাটতি রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া, দ্রুত সংবাদচক্র এবং খণ্ডিত মতামতের ভিড়ে গভীর, যাচাইকৃত ও বিশ্লেষণধর্মী জ্ঞানের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সেই প্রয়োজন পূরণে নন-ফিকশন বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম।
বই মেলা সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, এই বইমেলার একটি বড় তাৎপর্য হলো—এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালের ভেতরের জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে এসেছে। গবেষণা, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সমাজবিজ্ঞান—এই সব বিষয় যখন সহজ ভাষায়, দায়িত্বশীল প্রকাশনার মাধ্যমে পাঠকের হাতে পৌঁছায়, তখন জ্ঞান সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই চিন্তার কেন্দ্র। কিন্তু আজকের এই আয়োজন আমাদের মনে করিয়ে দেয়— বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু ডিগ্রি দেয়া নয়, সমাজকে ভাবতে শেখানোও তার দায়িত্ব। এ বইমেলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, প্রকাশক এবং পাঠকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—বাংলাদেশে নন-ফিকশন পাঠকের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
এবারের মেলাতে দেশের মোট ৩৯টি প্রকাশনা ও গবেষণা সংস্থা অংশ নিয়েছে। অংশ নেয়া প্রকাশকদের মনোনীত বই থেকে বিচারক প্যানেল ২০২৫-এর দুইটি নন-ফিকশন বই নির্বাচিত করে ‘নন-ফিকশন গ্রন্থ সম্মাননা ২০২৫’ প্রদান করা হয় সমাপনী অনুষ্ঠানে। এবার একইসঙ্গে গ্রন্থগুলোর প্রকাশককেও সম্মাননা দেয়া হয়।
সম্মাননা প্রাপ্ত বিজয়ী গ্রন্থ ও লেখকরা হলেন, 'দ্বিরালাপ: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও পূর্বাপর রাজনীতি সম্পর্কে বিশ্লেষণমূলক আলাপচারিতা'র নূরুল কবীর। বইটি প্রকাশ করেছে কথাপ্রকাশ। বিজয়ী আরেকটি গ্রন্থ হলো মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকির লেখা 'শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা'। এ বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।
এবারের জুরি বোর্ডে তিনজন সদস্য ও একজন সভাপতি ছিলেন। জুরি বোর্ডের সভাপতি ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক। সদস্যরা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক ও ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।










