যশোরে সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলে নিচ্ছেন গ্রাহক। চলতি অর্থবছরের পাঁচ (জুলাই-নভেম্বর) মাসেই সঞ্চয় অফিস থেকে ৮৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন গ্রাহক। এ সময়ে নতুন করে সঞ্চয় হয়েছে ৩৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা তুলে নেন গ্রাহক। এ সময় বিনিয়োগ হয় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা।
ব্যাংকে থাকা ডিপিএসের টাকাও মেয়াদ পূর্তির আগে তুলে নিচ্ছেন অনেক গ্রাহক। কারণ হিসেবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, অস্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থার কারণে মানুষ সঞ্চয় ভাঙছে। আবার অনেকে জমি কিনে রাখছেন।
যশোর জেলা সঞ্চয় অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মোক্তারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে গ্রাহক মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সঞ্চয়পত্র ভেঙে টাকা উত্তোলন করছেন। গ্রাহক উত্তোলনের সময় বলছেন, আয়ের চেয়ে খরচ বেড়েছে, যে কারণে টাকা তুলছেন। আবার অনেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ঝক্কি এড়াতে সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন।’
এদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে সব শ্রেণীর মানুষের ওপর। চাকরিজীবীসহ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় যাদের সঞ্চয় আছে, তারা সেটা ভাঙতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছেন।
শহরের বকচর হুশতলার নূরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করতাম। বর্তমানে সঞ্চয় অফিসে রাখা অর্থ থেকে যে মুনাফা পাওয়া যায় সেই টাকা দিয়ে চলতে হচ্ছে। কিন্তু গত ছয় মাস বাজার ও চিকিৎসায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চয় ভেঙে টাকা উত্তোলন করতে বাধ্য হয়েছি।’
বেজপাড়া মেইন রোডের আশরাফুল করিম জানান, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। মাসে নির্দিষ্ট বেতন ছাড়া আর কোনো আয় নেই। কিন্তু প্রতি মাসে সব দিক দিয়ে খরচ বাড়ছে। এ কারণে নভেম্বর মাসে তিনি একটি ডিপিএস ভেঙে ফেলেছেন।
শুধু সঞ্চপত্র নয়, বেসরকারি ব্যাংকে থাকা ডিপিএসের টাকাও তুলে নিচ্ছেন অনেক গ্রাহক। এ কারণে ব্যাংকগুলোর আমানতের হারও কমে আসছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড যশোর শাখার ব্যবস্থাপক (এসএভিপি) রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূলত জীবনযাত্রার মান অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষ সঞ্চয় ভেঙে ফেলছে। বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে চলতে পারছেন না। এ কারণে তারা ডিপিএস ভেঙে ফেলছেন। এতে আমাদের আমানতও কমে আসছে।’
ঢাকা ব্যাংক যশোর শাখার ব্যবস্থাপক হুমায়ন কবীর জানান, বেসরকারি ব্যাংকে এখন আমানতে মুনাফার হার বেড়েছে। তার পরও গ্রাহক মেয়াদ পূর্তির আগেই তাদের সঞ্চয় ভেঙে ফেলছে। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষা সব ক্ষেত্রে খরচ অনেক বেড়েছে। এতে বেশির ভাগ মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। গ্রাহক তাদের রাখা সঞ্চয় ভেঙে ফেলার কারণে ব্যাংকের আমানতও কমে যাচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে রূপালি ব্যাংক যশোরের সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত ছয় মাস সব ব্যাংকে আমানত কমেছে। বেশির ভাগ গ্রাহক তাদের রাখা সঞ্চয় ভেঙে ফেলার সময় বলছেন, অস্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে তাদের ব্যয় হচ্ছে বেশি। অনেকে ঋণ করেও চিকিৎসা করাচ্ছেন। যে কারণে বর্তমান সময়ে ব্যাংকগুলোয় আমানত কম হচ্ছে।’ জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।










