বজ্রপাতে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জে বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র (লাইটিং অ্যারেস্টার মেশিন) বসানোর কাজ শুরু করেছিল সরকার। তবে দুই বছরেও জেলার ৯ উপজেলার অর্ধেক স্থানেই বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের কাজ শেষ হয়নি।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের সূত্র মতে, হবিগঞ্জে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ জেলায় ২০২০ সালে ১৫ ও ২০২১ সালে ১২ জন বজ্রপাতে মারা যান। তিন বছরে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের। অর্থাৎ প্রতি বছর বজ্রপাতে গড়ে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে হবিগঞ্জে।

দেশের হাওরাঞ্চলসহ বজ্রপাতপ্রবণ ২৩ জেলায় ছাউনি নির্মাণে ২০২১-২২ অর্থবছরে একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রতিটি ছাউনির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এক কিলোমিটার অন্তর অন্তর নির্মাণ করা হবে একেকটি শেল্টার, যাতে বজ্রপাতের আওয়াজ পেলেই মাঠের কৃষকসহ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। এ প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত অর্থবছরে (২০২১-২২) হবিগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে বাহুবল উপজেলায় ১৫ লাখ, নবীগঞ্জে ৩০, বানিয়াচংয়ে ৪৫, আজমিরীগঞ্জে ৩০, হবিগঞ্জ সদরে ১৫, লাখাইয়ে ২৫, শায়েস্তাগঞ্জে ১০, চুনারুঘাটে ১৫ ও মাধবপুরে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, হবিগঞ্জ জেলার নয়টি উপজেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র স্থাপন কাজ শুরু হলেও এখনো অর্ধেক উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। হবিগঞ্জ সদর, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের কাজ শেষ হয়নি। কোনো কোনো উপজেলায় কাজ শুরুই হয়নি।

বানিয়াচং উপজেলায় সাতটি জায়গায় বসানোর কথা থাকলেও তিনটি স্থানে যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মলয় কুমার দাশ জানান, বাকি চারটি বজ্রনিরোধক যন্ত্রে আইওটি সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে যন্ত্রটি কী পরিমাণ বজ্রপাত প্রতিরোধ করেছে তা জানা সহজ হবে। সাধারণ বজ্রনিরোধক যন্ত্রের চেয়ে এর মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা বেশি।

আজমিরীগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, পৌর এলাকাসহ চয়টি স্থানে বজ্রনিরোধক যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র বসানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তাজউদ্দিন জানান, ভাটি এলাকা থেকে পানি সরে না যাওয়ায় মেশিন বসাতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, তাড়াতাড়ি এ কাজ শেষ করা হবে।

হবিগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ও পুনর্বাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন জানান, নিচু এলাকায় পানি শুকিয়ে গেলেই যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ হবে।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যু বেশি হয় খোলা মাঠ ও হাওরের মধ্যে। তাই খোলা মাঠ ও হাওরে বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের মতো বজ্রপাত আশ্রয় কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, হবিগঞ্জে বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র বসাতে ধীরগতির কারণ তিনি অনুসন্ধান করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।