কনকনে শীত আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানীর ঢাকার জনজীবন। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকার বাতাসে শীতের তীক্ষ্ণ ছোবল অনুভূত হচ্ছে। দিনের দুপুর ১২টার দিকেও রাজধানীতে সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে শীতের প্রকোপ কমছে না। এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। শহরের ব্যস্ত এলাকায় যেখানে মানুষ কোট-সোয়েটারে নিজেদের ঢেকে নিচ্ছেন, সেখানে ফুটপাতে থাকা মানুষগুলো পুরনো কাপড়, পলিথিন কিংবা বস্তা গায়ে জড়িয়ে ঠাণ্ডা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) শীত যেন আরও বেড়েছে রাজধানীতে। ঢাকায় আজকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে সূর্যের দেখা নেই আজ দুইদিন। গত শনিবার দুপুরের দিকে হালকা রোদের তাপ পাওয়া গেলেও তেজ না থাকায় শীতের অনুভূতি আগের মতই ছিল। ফলে গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীবাসীকে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত পোশাক ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।

শীতের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো মানুষদের জন্য শীত যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফুটপাতের পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতেও দেখা যায়। এদিকে শীতের পোশাকের কেনাকাটাও বেড়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মঙ্গলবারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়াহিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, মঙ্গলবারও এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বুধবার কুয়াশা কিছুটা কেটে যেতে পারে।

রাজধানীর ইসিবি চত্ত্বরে কথা হয় ৭০ বছর বয়সী আবুল বাশারের সঙ্গে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বয়স হয়েছে, শরীর আর আগের মতো নেই। এই শীতে রাতে ঘুমানোই সবচেয়ে বড় কষ্ট। ঘুমাতে গেলে মনে হয় হাড় ভেঙে যাবে।’

লক্ষ্মীপুর থেকে রাজধানীতে আসা আসমা আক্তার জানান, আজিমপুর এলাকায় থাকা শিউলি বেগম বলেন, ‘আমার সঙ্গে দুইটা ছোট বাচ্চা। রাতে ওদের শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। নিজে কাঁপলেও ওদের বুকে জড়িয়ে রাখি। তিনি বলেন, হাড় হিম করা ঠান্ডায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

কথা হয় চাকরিজীবী জাহানারা আক্তারের সঙ্গে । তিনি বলেন, ‘শীত মানেই আমাদের কাজের চাপের সঙ্গে কষ্টও বাড়ে। সকালে খুব ভোরে বাসা থেকে বের হতে হয়। কুয়াশা আর ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা সবচেয়ে কঠিন। খুব সহজে বাসা থেকে উঠা যায় না শীতের কারণে। অফিসের ভেতরেও অনেক সময় গরমের ব্যবস্থা ঠিক থাকে না। কাজ করতে করতে অনেক সময় হাত শক্ত হয়ে যায়।’