ঈদের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উপহার দেয়ার চল বহুদিনের। সে তালিকায় সাধারণত পোশাক কিংবা খাদ্যসামগ্রীই থাকে। তবে গতানুগতিক সে ধারা ভেঙে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে যশোরের ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’ সংগঠন। ঈদে গ্রামের শিশুদের উপহার হিসেবে তারা দিচ্ছে বই উপহার। বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ বইগুলোই নির্বাচন করা হয়েছে, যেগুলো কেনা হয়েছে পাঠচক্র সদস্যদের হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে। তারা এসব বই পৌঁছে দেবেন প্রায় ৩০টি গ্রামের মেধাবী জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীর হাতে।
যশোর ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ শিক্ষক মিলনায়তনে গতকাল বিকালে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জে এম ইকবাল হোসেন। আরো বক্তব্য দেন তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা সাধন দাস, সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান, জেলা সহকারী তথ্য অফিসার এলিন সাঈদ-উর রহমান প্রমুখ।
ঈদ উপহার হিসেবে গ্রামের শিশুদের বই দেয়ার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন অতিথিরা। তারা বলেন, ‘শুভবুদ্ধি, মানবিকতা এবং ইতিবাচকতার নির্দেশনাসমৃদ্ধ এসব বইয়ের মাধ্যমে গ্রামের শিশুরা উন্নত চেতনা এবং পরিশীলিত জীবনবোধের ছোঁয়া পাবে। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পাবে তুলনামূলক পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত গ্ৰামের শিক্ষার্থীরাও। ক্রমান্বয়ে তাদের বইয়ের প্রতি তৃষ্ণা বাড়বে এবং জাগ্রত হবে বিবেক। চিন্তা-চেতনায় আসবে পরিবর্তন এবং আলোর ছোঁয়া পেয়ে আলোকিত হবে তাদের পথচলা।’
এমএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ্জাহান কবীর বলেন, ‘শিশুদের হাতে এ বই তুলে দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে না। সেগুলো তারা পড়ছে কিনা তাও দেখভাল করা হবে। অনেক সংগঠন ঈদে নতুন জামা-কাপড় ও সেমাই-চিনি উপহার দেয়। কিন্তু শিশুদের মনোজাগতিক পরিবর্তনে গত বছর থেকে তাদের হাতে ঈদের উপহার হিসেবে বই তুলে দেয়া হচ্ছে।’










