বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সগুনিয়া গ্রামের আধা কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য খুঁড়ে রেখে কাজ শেষ না করেই উধাও হয়েছেন প্রকল্পের ঠিকাদার। ছয় মাস আগে কাজের অনুমোদন পাওয়ার পরে শুধু সড়কের বক্স কাটিং করার পর থেকে ঠিকাদারের কোনো লোককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে টানা ছয় মাস পড়ে আছে খনন করা সড়কটি। খননকৃত সড়ক দিয়ে গ্রামের লোকজন চলাচল করতে না পেরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিবহন করা যাচ্ছে না কৃষিপণ্যও।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সগুনিয়া গ্রামটি কৃষিকাজের জন্য বেশ পরিচিত। এ ইউনিয়নে শীতের সবজি ছাড়াও সারা বছর ধান, পাট, সরিষাসহ নানা কৃষি ফসল উৎপাদিত হয়। সগুনিয়া গ্রামটিতে সহস্রাধিক পরিবারের বাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মন্দিরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে গ্রামটিতে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। তবে মাত্র আধা কিলোমিটার সড়ক সগুনিয়া গ্রামকে দুর্গম করে রেখেছিল। এ পথে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে বিপাকে পড়তেন। বর্ষাকালে হাঁটু পানি জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত সড়কটি। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরণে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুল কানেক্টিং রোড নির্মাণ প্যাকেজের দরপত্র আহবান করা হয়। এ প্যাকেজে রয়েছে দুটি সড়ক নির্মাণকাজ। এর মধ্যে একটি হলো উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সগুনিয়া গ্রামে ৫০০ মিটার সড়ক পাকাকরণ। এটি প্রায় ৩০ লাখ টাকার কাজ। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চলতি বছরের শুরুতেই বগুড়ার মা তাসিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ প্যাকেজের কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজটি জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। ছয় মাস আগে সগুনিয়া গ্রামের সড়কটি পাকাকরণের কাজ শুরু করেন তারা। প্রাথমিক খননকাজ (বক্স কার্টিং) সম্পন্ন করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তার লোকজন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার লিখিত আদেশ ও নির্দেশনা দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে সূত্রটি জানায়। এদিকে সড়কটি খুঁড়ে রেখে কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদার উধাও হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।
ভুক্তভোগী প্রভুল্ল চরণ ভৌমিকসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সড়কটি পাকাকরণের জন্য খননকাজ করেন ঠিকাদারের লোকজন। কিন্তু আর কোনো কাজ করেননি তারা। তাই বর্ষায় বৃষ্টিপাত শুরু হলে খুঁড়ে রাখা সড়কটির মধ্যে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। এখন পানি না থাকলেও সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী আবু তালিম হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, কাজটি যাকে দেয়া হয়েছিল, তিনি করেননি। তাই খুঁড়ে রাখা সড়কটি বেশ কিছুদিন ধরে পড়ে রয়েছে। অচিরেই গ্রামের লোকজনের এ দুর্ভোগ কেটে যাবে। সাবঠিকাদার হিসেবে একজন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। তিনিই সড়কের পাকাকরণ কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করবেন বলে দাবি করেন এ প্রকৌশলী।
মা তাসিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল আহমেদ বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে প্যাকেজের কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।










