নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জের হাশেম ফুড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় আজও বিভিন্ন ফ্লোরে ধুমায়িত হচ্ছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আগুন দেখা যাচ্ছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কোনো কর্মীকে দেখা যায়নি। গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। যে কারনে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলছে। নিখোঁজদের ছবি নিয়ে ছুটছেন স্বজনরা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার ব্রিগেডের উপ-সহকারি পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, এখন যে আগুন জ্বলছে এ থেকে বড় কোনো দূর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই। আমরা প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে কোথাও ধোঁয়া বা আগুনের ছোট শিখা দেখা গেলে কি করতে হবে তা বলে এসেছি। তারপরেও যদি তারা আগুন বেশি মনে হয় তাহলে আমাদের খবর দিলে আমরা সেখানে গিয়ে আগুন নেভাবো।
ছবি নিয়ে ছুটছেন স্বজনরা :
ফ্যাক্টরি ও মেডিকেলে ছবি নিয়ে ছুটছেন স্বজনরা । রোববার সকাল থেকে নিহতদের বেশ কয়েকজন স্বজন নিখোঁজদের ছবি নিয়ে ফ্যাক্টরির সামনে ভীড় জমাচ্ছেন। তাদের একটাই দাবী পোড়া গলা যা-ই হোক মৃতদেহ চাই। নিখোঁজদের ছবি নিয়ে মৃতদেহের দাবীতে কখনো তারা ফ্যাক্টরিতে কখনো ঢাকা মেডিকেলে ছুটছেন।
আগুনে পোড়া হাসেম ফুডের কারখানার গেটের সামনে কাঁদছিলেন রুপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকার মিতু আক্তারের (১৪) পিতা গোলাম হোসেন। তিনি জানান, ‘আমার দুই মেয়ে এ কারখানায় কাজ করে। বড় মেয়ের রাতে ডিউটি থাকার কারনে ঘটনার সময় সে ফ্যাক্টরিতা ছিলো না। তাই সে বেঁচে গেছে। ছোট মেয়ে মিতু আমার পকেট থেকে দশ টাকা নিয়ে এসে কাজে যোগ দিয়েছিলো তখন থেকে এখনও মেয়ে আর ফিরলো না। আমার মেয়ে জীবিত, মৃত, পঁচা গলা পোড়া যা-ই থাকুক আমাকে দিয়ে দিন। তার মাকে নিয়ে শান্তনা দেই। এই বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
গোলাম হোসেনের সাথে কথা বলতে দেখে লিলি বেগম এসে জানান তার ছেলে রিপন ইয়াসিনের (১৩) ছবি নিয়ে খুঁজতে এসেছেন। সাথে এসেছে ইয়াসিনের স্কুল শিক্ষকও। ইয়াসিন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। লকডাউনের কারনে স্কুল বন্ধ থাকায় এ ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ দিয়েছিলো। কিন্তু আগুন কেড়ে নিয়েছে তাকে। আর সে বাসায় ফিরে যায়নি। গত তিনদিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে গলা বসে গিয়ে কথা বলতে পারছিলেন না লিলি বেগম। ভাংগা গলায় তিনি বলেন, ‘ছেলে কাজে যোগ দেয়ার পর তার জন্য দুপুরে ভাত নিয়ে আসতে চাইতাম। ছেলে বলতো মা ভাত নিয়ে আসলে মানুষ জানবে আমি কাজ করছি। মানুষ জানলে শরম লাগবে। কিন্তু আজ তিনদিন ধরে ছেলের ছবি নিয়ে দাঁড়িয়েছি ওছেলেরে তুই কই গেলিরে...’ বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।










