মেহেরপুরের গাংনীতে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপন করলেও একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে মামলা করতে বাধা দিচ্ছে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম। ধর্ষণের অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারের নামে গাংনী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন মনিরুল। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা চলছে। তবে গাংনী পুলিশ বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধী তরুণী জানান, গত ৩০ আগস্ট তার মা চিকিৎসা নিতে রাজশাহীতে ছিলেন। কাজের উদ্দেশ্যে বাবা ছিলেন বাড়ির বাইরে। আর এ সুযোগে প্রতিবেশী মনিরুল ইসলাম তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। প্রতিবন্ধীর চিত্কারে ছোট ভাই এগিয়ে গেলে দৌড়ে পালিয়ে যায় মনিরুল।

এদিকে ধর্ষণের বিচার চাইতে ওই দিন মনিরুলের বাড়িতে যান প্রতিবন্ধী ও তার পরিবারের সদস্যরা। এতে মনিরুলের স্ত্রী রোজিফা খাতুন, তার  মেয়ে আয়েশা খাতুন ওরফে মুন্নী এবং জামাতা শান্ত মারপিট করে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জহির রায়হান জানান, ঘটনাটি ভবানীপুর ক্যাম্পের অদূরের ঘটনা। ৯৯৯ ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে মামলার পরামর্শ দিয়েছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, সুচতুর মনিরুল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় নানাভাবে পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা না করতে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় একটি চাঁদাবাজির অভিযোগও করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে গ্রামের একটি পক্ষ বিষয়টি মীমংসার জন্য উঠেপড়ে  লেগেছে। অভিযুক্ত মনিরুলকে রক্ষা করতেই নানাভাবে প্রতিবন্ধীর পরিবারকে টাকার প্রলোভন ও হুমকি দিচ্ছে তারা। ফলে ওই প্রতিবন্ধী ও তার পরিবারের লোকজন মামলা করতে থানা পর্যন্ত যেতে পারছে না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে ওই প্রতিবন্ধী পরিবারটি মিথ্যা অভিযোগ করছে। মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধর্ষণের বিষয়টি খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

এ পর্যন্ত কারো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।