বগুড়ায় বৃষ্টির মধ্যে কোটা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র ছাত্রীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন কালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, বঙ্গবন্ধুর দুটি মুর‌্যাল ও কয়েকটি ভবনের গ্লাস ভাংচুর করে। পরে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে শিক্ষার্থীরা সাতমাথা এলাকার বিভিন্ন মোড়ে কাগজের কার্টুন, বাঁশসহ বিভিন্ন কিছুতে অগ্নিসংযোগ ও দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষোভকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখেই টানা ৬ ঘণ্টা জেলা শহরের সাতমাথা এলাকায় অবরোধ করে রাখে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে তিনটায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যে জেলা শহরের স্টেশন রোড, জলেশ্বরীতলা, খান্দার সড়ক, দত্তবাড়ি, বড়গোলা হয়ে জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় অবস্থান নেয়। সেখানে প্রচুর বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের দেখা যায়। কর্মসূচি পালনে মিছিলের সামনের সারিতে অসংখ্য স্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের দেখা যায়। জেলা শহরের সাতমাথায় হাঁটু পানি জমে থাকলেও সেই পানির মধ্যেই বিক্ষোভ করে।

বিকাল সাড়ে ৪টার সময় বিক্ষোভকারীরা চলে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। দিগ্বিদিক ছুটে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় সমবেত হয়। এ সময় সাতমাথার আশপাশের কয়েকটি ভবনের গ্লাস ভাংচুর করা হয়। সাতমাথাস্থ মুক্তিযোদ্ধা জেলা সংসদের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল পুরোটাই ভেঙে ফেলে। এরপর পাশের বঙ্গবন্ধু মঞ্চের বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল ভাংচুর করে। দেয়ালের সঙ্গে থাকা পাথরের মুর‌্যাল বিক্ষিপ্তভাবে ভাঙার পর কাদা মাখিয়ে দেয়। পুলিশ বক্সে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। সাংবাদিকরা ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তিনজনকে পিটিয়ে আহত করে। আহতরা হলেন দীপ্ত টিভির বগুড়ার প্রতিনিধি আবু সাঈদ (৪৭), যমুনা টিভির বগুড়ার ভিডিও জার্নালিস্ট আব্দুল মোমিন (২৮) ও ইনডিপেনডেন্ট টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট আলী হায়দার (২৬)। এছাড়া বিক্ষোভ মিছিলে আসা আরো ১৬ থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতরা সবাই বিপদমুক্ত ও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে। বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে বেশ কয়েকজন ছাত্রকে সড়কের ওপরই আছরের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। এ সময় অন্যান্য ছাত্ররা তাদের ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুঁড়েছে। বগুড়া শহরের থানার মোড়ে কিছু যুবক ভাংচুর করলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার সেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করেনি মুল শহরের মধ্য দিয়ে। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা চলে যায়।