১৯৪৭-এর পরবর্তী বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে দেশ অন্ধকার যুগে প্রবেশ করে। স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালনে স্বাধীনতার সূর্য প্রায় অস্তমিত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে আলোর দিশারি হয়ে দেশের হাল ধরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তার ওপরও গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। এ দুই ঘটনায় শেকড় যশোরের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘আনন্তর্য তর্জনী’। গত রোববার রাতে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটকের মূল উপজীব্য- বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একইসূত্রে গাঁথা।
এক ঘণ্টার নাটকে ইতিহাসের সাদাকালো দিনগুলোতে ফিরে যায় দর্শক। পিনপতন নীরবতায় দর্শক হৃদয়ে দাগে কাটে নাটকের দৃশ্যপট।
‘আনন্তর্য তর্জনী’র স্ক্রিপ্ট লেখক তালহা ধ্রুব জানান, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একসূত্রে গাঁথা। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এই সূত্র হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিল। তারা বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত করার অপপ্রয়াস চালায়। তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ছোট্ট রাসেলসহ বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারকে হত্যা করে তারা রচনা করে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নারকীয় হত্যযজ্ঞ। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
তিনি আরো জানান, ‘৭৫-এর পরবর্তী অস্তমিত স্বাধীনতার সূর্যকে আবার আলোর দিশারি হয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে আসেন শেখ হাসিনা। কিন্তু ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুড়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্য নিয়ে রচিত হয় আরেক নিকৃষ্ট কালো অধ্যায়। এ দুটি ঘটনাই একসূত্রে গাঁথা এবং একই কুশিলবদের রচিত পটভূমি। সে ভাবনার পটভূমিকে কেন্দ্র করে থিয়েটার কোরিওগ্রাফি ড্রামা ‘আনন্তর্য তর্জনী’ লেখা হয়েছে। যা শেকড় যশোরের প্রযোজনায় প্রথম মঞ্চস্থ হল। যেখানে ৩৫ জন কলাকুশলী তাদের অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করে।
নাটকটি উপভোগ করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু, শেকড় যশোরের সভাপতি অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু, ‘আনন্তর্য তর্জনী’ মঞ্চায়নের ভাবনা ও পরিকল্পনাকারী শাহেদুল ইসলামসহ প্রমুখ। সূচনা বক্তব্য দেন শেকড় সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু।










