ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। এপারে একতারপুর আর ওপারে পারখিদ্দা গ্রাম। উপজেলা শহর বা স্থানীয় বাজারে পণ্য আনা-নেয়াসহ দৈনন্দিন কাজে নদী পার হতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। চলাচলের জন্য এলাকাবাসী একটি সাঁকো তৈরি করেছেন। সেটিও চলাচলের অনুপযোগী। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই নড়বড়ে সাঁকো পার হতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একতারপুর ও পারখিদ্দা গ্রামের মাঝামাঝি সাঁকোটির দক্ষিণে তিন কিলোমিটার দূরত্বে পারখিদ্দা ও মঙ্গলপতিয়া গ্রামের মাঝে একটি সেতু রয়েছে। উত্তর দিকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে বনখিদ্দা ও বেথলী মল্লিকপুর গ্রামের মাঝে রয়েছে আরেকটি সেতু। এক সময় সাঁকো দিয়ে নদী পার হলেও উপজেলা শহরে যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য সেতু দুটি ব্যবহার করছেন অনেকে। তবে নদীর দুই পারেই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদের সাঁকো পার হতে হয়।

একতারপুর গ্রামের করিম আলী বলেন, ‘গ্রামবাসী বারবার সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বাইরে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সেটি আর বাস্তবায়ন হয় না। অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাঁকো পার হওয়া কষ্টকর। বর্ষাকালে সাঁকো ডুবে যায়, তখন নদী পার হওয়ার কোনো উপায় থাকে না।’

একতারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফ আলী, ‘বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিত্রা নদী পার হয়। বর্ষায় যখন সাঁকোর বাঁশগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায়, তখন পার হওয়া আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। শিশু বা বৃদ্ধরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। কিন্তু কোনো বিকল্প না থাকায় সবাইকে বাধ্য হয়ে এ পথেই চলাচল করতে হচ্ছে। বছরে অন্তত দুবার সাঁকোটি মেরামত করতে হয়।’

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে জনকল্যাণে যেটা করা প্রয়োজন আমরা সেটাই করব। এ মুহূর্তে আমাদের হাতে সেতু নির্মাণের কোনো বাজেট নেই। পরবর্তী সময় বাজেট এলে বা সরজমিনে দেখে সেতু নির্মাণে প্রস্তাব পাঠানো হবে।’