বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, আমরা কাজ করছি, কিন্তু সেই কাজের আউটপুট আসছে না। হয় আমরা ঠিকভাবে কাজ করছি না, অথবা যেসব কাজ করছি তা থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না।
গত এক দশকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ। তিনি বলেন, এ অবস্থায় একটি ‘গিয়ার শিফট’ প্রয়োজন—বর্তমান গতিতে কাজ করলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে, কারণ অন্যান্য দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নীতিগত সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডায় অনুষ্ঠিত ইউএনসিটিএডি ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ (আইপিআর) ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে আজ প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি সংস্কারে গতি আনতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) ও বিডার অংশীদারত্বে এ রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে।
বক্তব্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়ানো, সরকারী সেবা সহজ ও ডিজিটাল করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তুলে ধরেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক প্লাটফর্ম ও সেবা কেন্দ্র থাকা জরুরি, যেখানে সব ধরনের অনুমোদন, লাইসেন্স ও নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে।
তিনি আরো বলেন, দেশে পরিকল্পনা ও রিপোর্ট তৈরি হলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। আমরা অনেক পরিকল্পনা করি, সুন্দর রিপোর্ট তৈরি করি, কিন্তু পরে দেখা যায় সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়রত্নে বলেন, দৃঢ় বিনিয়োগ নীতিমালা ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এমন দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে—বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে।
বিডার অনুরোধে ইউএনসিটিএডির প্রস্তুতকৃত ২০২৬ সালের ‘আইপিআর ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্টে’ ২০১৩ সালের ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নের এক দশকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিনিয়োগ সহজীকরণে বিডাকে প্রধান সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবার সম্প্রসারণসহ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি একটি সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন, সমন্বিত বিনিয়োগ আইন প্রবর্তন এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো অগ্রাধিকারমূলক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইউএনসিটিএডির ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের পরিচালক ন্যান লি কলিন্সের একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়। এর পর সংস্থার ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের লিগ্যাল অফিসার কিয়োশি আদাচি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পারারির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় প্রতিবেদনটির সুপারিশ বাস্তবায়নের ব্যবহারিক পথনকশা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিডার নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ, বিডার সাবেক মহাপরিচালক মো. আরিফুল হক, বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম এবং বাণিজ্য নীতি ও সহজীকরণ বিশেষজ্ঞ মো. হাফিজুর রহমান।
যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ বাস্তবায়িত ট্রান্সফরমেটিভ ইকোনমিক পলিসি প্রোগ্রামের (টিইপিপি) আওতায় সংলাপটি আয়োজন করা হয়। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউএনডিপি অর্থনৈতিক সুশাসন জোরদার করতে এবং তথ্য–প্রমাণভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে নীতিগত পরামর্শ ও সক্ষমতা উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে থাকে। এ প্রতিবেদন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টাকে আরো জোরদার করবে বলে আশা করা হয় অনুষ্ঠানে।










