জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশী ফল স্ট্রবেরি চাষ করে অনেকেই সফলতা পেয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন এ এলাকায় স্ট্রবেরি চাষে ঝুঁকে পড়ছেন চাষীরা।
এক দশক আগেও এখানকার কৃষকদের ভাবনায় ছিল না, বিদেশী জাতের সুস্বাদু ফল স্ট্রবেরি চাষ হবে এ জেলার মাটিতে। বর্তমান এ এলাকার অনেকেই স্ট্রবেরি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। অন্য ফসলের তুলনায় লাভের হারও প্রায় চারগুণ। স্থানীয়ভাবে খুচরা পর্যায়ে কিছু ফল বিক্রি হলেও পাইকারিভাবে স্ট্রবেরি বিক্রি করা যায় না। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার স্ট্রবেরি চাষীরা। তারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্ট্রবেরি বাজারজাতের যথাযথ উদ্যোগ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চাঁন্দা, কালীবাড়ী মাঠে খেতের পরে খেত জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে ফসলের মাঠ। আর জাল দিয়ে ঘিরে রাখা খেতের ভেতরেই কেউ করছেন স্ট্রবেরি গাছের পরিচর্যা, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ তুলছেন স্ট্রবেরি ফল।
কালীবাড়ী গ্রামের সফল স্ট্রবেরি চাষী ইউনুস আলী সাগিদার বলেন, ৯ বছর আগে কৃষক আব্দুল মোমিন আমাদের এলাকায় প্রথম স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। তার সাফল্য দেখে ছয় বছর আগে দেড় বিঘা জমিতে আমিও বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করি। অল্প খরচে অন্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভজনক হওয়ায় পরের বছর থেকে দুই বিঘা জমিতে প্রতি বছর স্ট্রবেরি চাষ করে আসছি। স্ট্রবেরি ফল বিক্রির মাধ্যমে এরই মধ্যে সংসার থেকে অভাব দূর করে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। এখন অন্য চাষীরা আমার কাছ থেকে স্ট্রবেরি চারা সংগ্রহ করেন। অনেকে পরামর্শও নেন। ফলে দিন দিন এলাকায় স্ট্রবেরির চাষ বেড়েই চলেছে। গত বছর এ এলাকায় স্ট্রবেরি চাষ করেছিলে ৭৩ কৃষক। এ বছর নতুন করে আরো বেশকিছু চাষীসহ প্রায় ১০০ জন স্ট্রবেরি চাষ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি স্ট্রবেরি চাষ শুরু করতে হয়। এজন্য পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর দিয়ে পাঁচ-ছয়টি চাষ করে জমির মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। তারপর সার, গোবরসহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে জমি প্রস্তুত করতে হয়। এসব মিলে স্ট্রবেরি চাষের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ৮০-৯০ হাজার টাকা। আর সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে ৪-৫ লাখ টাকা।
সফল স্ট্রবেরি চাষীরা বলেন, উইন্টারডন জাতের একটি চারাগাছ থেকে মৌসুমে কমপক্ষে দুই কেজি ফল পাওয়া যায়। কিন্তু এ ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও স্থানীয়ভাবে বাজারজাতের ব্যবস্থা না থাকায় স্ট্রবেরি বিক্রি করতে সমস্যার মুখে পড়তে হয় আমাদের। এলাকায় পাইকারিভাবে স্ট্রবেরি বিক্রি করা যায় না। খাওয়ার জন্য ফেরি করে কিছু বিক্রি হয়। তাই জমি থেকে তোলা স্ট্রবেরি ঢাকায় আড়তদারের কাছে পাঠাতে হয়। ঢাকার মহাজনরা আমাদের কাছ থেকে বাকিতে নিয়ে সেই স্ট্রবেরি বিক্রির পরে টাকা দেন। কোনো কারণে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই স্ট্রবেরি নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে টাকাও মার যায়। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্ট্রবেরি ক্রয়-বিক্রয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান চাষীরা।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কায়ছার ইকবাল বলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলায় এবার প্রায় আট হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। এর পুরো কৃতিত্বই কৃষকদের। কারণ কৃষকরা স্বপ্রণোদিতভাবে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। কৃষক যাতে লাভজনকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করতে পারেন, সেজন্য আমরা তাদের পরামর্শ সেবা দিই। আর আমাদের যারা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন, তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সঙ্গে মাঠেই থাকেন। আমরাও মাঝে মাঝে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মাঠে যাই।










