জয়পুরহাটে কৃষিকাজের জন্য ব্যবহূত বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের ৮৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া এসব ট্রান্সফরমার উদ্ধার না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকরা। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে ট্রান্সফরমার উদ্ধারে পরস্পরবিরোধী কথা বলছে পুলিশ প্রশাসন, জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেচকাজ ব্যাহত হবে। এতে ফসল উৎপাদনে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জেলার কৃষকরা।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, কৃষিজমিতে সেচকাজের জন্য জেলার পাঁচটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ১ হাজার ৮৭৫টি গভীর, ৩ হাজার ৪৯৩টি অগভীর ও ২টি এলএলপি নলকূপ রয়েছে। আর বিএমডিএর ৩৫৯টি গভীর নলকূপ রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় বিদ্যুচ্চালিত ৫ হাজার ৩৭০টি নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপের জন্য প্রায় ৮ হাজার ট্রান্সফরমার রয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের মধ্যে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চুরি হয়েছে ৮৬টি। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের ৭৪টি ও বিএমডিএর ১২টি। ৫ কেবি ট্রান্সফরমারের সরকারি মূল্য ৩৮ হাজার, ১০ কেবির মূল্য ৫৯ হাজার ও ১৫ কেবির মূল্য ৯৭ হাজার।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সূত্র আরো জানায়, ট্রান্সফরমারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেচ পাম্প অপারেটরদের প্রতি ঘণ্টার জন্য শতকরা ১০ টাকা কমিশন দেয়া হলেও চুরি ঠেকানো যায়নি। প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর সেচ পাম্প মালিকদের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক থানায় অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হলেও কোনো ট্রান্সফরমারই উদ্ধার বা কোনো অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো উদ্ধার না হওয়ায় সেগুলো পুনরায় সেচ পাম্প মালিকদের কিনতে হয়েছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার কয়তাহার গ্রামের সেচ পাম্প মালিক আব্দুল মজিদ মল্লিক বলেন, গত ২৭ অক্টোবর আমার পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি। ফসল রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে ট্রান্সফরমার কিনে পুনরায় সেচকাজ চালু করেছি।

কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি হাটের মজিবর রহমান জানান, গত ২৬ অক্টোম্বর আমার সেচ পাম্পের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

এদিকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবস্থায় বৈদুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি যেমন সহজ নয়, আবার বৈদ্যুতিক বিষয়ে অনভিজ্ঞ কোনো চোরের পক্ষে ট্রান্সফরমার চুরি করাও অসম্ভব বলে জানান সেচ পাম্প মালিকসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিদ্যুৎ বিভাগের কিছুসংখ্যক অসাধু কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন সংশ্লিষ্টরা।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়ার জেনারেল ম্যানেজার এনামুল হক প্রামাণিক ও বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের পক্ষে চোর ধরা সম্ভব নয়, তবে আমরা গ্রাহকদের সচেতন করে থাকি।

জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, এক্ষেত্রে শুধু সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ দেয়া যায় বলে এসব বিষয়ে কম গুরুত্ব দেয়া হয়। এ কারণে অপরাধীরাও পার পেয়ে যাচ্ছে।