পরিবেশ বিপর্যয় রোধ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় কেটে ও বনের কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি বন্ধের নির্দেশনাও আছে উচ্চ আদালতের। তবে এসব নির্দেশনা বরাবরই অগ্রাহ্য করে যাচ্ছেন বান্দরবানের ইটভাটা মালিকরা। জেলার সাঙ্গু নদের পাড় খনন ও কৃষিজমি কেটে নতুন ইটভাটা স্থাপনের প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে নদের আশপাশের প্রাণ-প্রকৃতি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অনুমতি ছাড়াই গত বছর ৩০টি ভাটায় ইট পোড়ানো হয়। এছাড়া জেলায় ৬৩টি ইটভাটার কার্যক্রম চালু ছিল। ফাইতং মৌজায় বন বিভাগের ৩২০ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চলও রয়েছে। উচ্চ আদালতের আদেশে ২১টি ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক মো. ফখর উদ্দিন চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘জেলার সব ইটভাটা অবৈধ। রুমায় নতুন অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভাটা স্থাপনের জন্য তিন সপ্তাহ আগে কাজ শুরু করেছেন রতন কান্তি দাশ ও টেক্সটাইল মিলন। এতে ব্যবহৃত হচ্ছে দুটি এক্সক্যাভেটর ও একাধিক ডাম্পার ট্রাক। রুমা বাজার থেকে পলিকাপাড়া পর্যন্ত একাধিক স্থানে রতনের লোকজন রয়েছে। সাংবাদিক, পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন আসতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের সটকে যেতে বলা হয়।
এ বিষয়ে জানতে গত দুদিনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি রতন কান্তি দাশ ও মিলনের। তবে ইটভাটার সঙ্গে তার ও লক্ষ্মীপদ দাশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন শৈমং মারমা। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তারা আমার ও লক্ষ্মী দাদার নাম ভাঙিয়ে এ অপকর্ম করছে হয়তো। এ কাজে জড়িত রতন কান্তি দাশ ও মিলন।’
আইন অমান্য করলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অরূপ চক্রবর্তী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ পানি আইন অনুযায়ী যেকোনো জলাশয়ে সর্বোচ্চ পানির স্তর বলতে বছরে যে সময়টিতে নদীতে পানি ভরপুর থাকে, সে সময়কে বোঝানো হয়। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ এ স্তর থেকে জলাশয় বা নদের উভয় পাশে ১০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা করা যাবে না।’










