চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর ওপর টোরাগড়-বড়কুল সেতুর নির্মাণকাজ ছয় বছরেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। অথচ কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করে দুই বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড়সংক্রান্ত জটিলতায় নির্মাণকাজ থমকে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হাজীগঞ্জ উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল টোরাগড়-বড়কুল সেতুটি নির্মাণের। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০১৭ সালের ১৪ মে ২৬৭ মিটার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি ৪৯ লাখ ৪৮ হাজার ১৪ টাকা। সেতুটির দুই পাড়ে প্রায় ২৭৭ দশমিক ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণ  ধরা হয় ১৫ কোটি ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টাকা। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুরমা-আরবিএল জেভী কাজ শুরু করলে শুরু হয় নানা জটিলতা। প্রথমে বড়কুল ইউনিয়নের বড়কুল গ্রামের ভূমির মালিকরা এবং পরবর্তী সময়ে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার টোরাগড় গ্রামের ভূমির মালিকরা নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করেন। এমনকি তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত প্রকৌশলী (সাইট ইনচার্জ) আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। পরে সংসদ সদস্যের নির্দেশে পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল-আলম লিপনসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জমির মালিকদের নিয়ে বিষয়টির সুরাহা করার পর কাজ শুরু হয়। সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে জমির মৌজার মূল্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকরা টাকা পাননি।

এদিকে সেতুর দুই পাশের ভূমির মালিকদের মামলা, নির্মাণকাজে বাধা দেয়াসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের ওয়ার্ক ওয়ার্ডারের ছয় মাস পর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে আরো সময় চেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ভূমির মালিকদের মধ্যে আব্দুর রব, মেন্দু মিয়া, শহীদ উল্যাহ ফকির ও মো. মোস্তফা জানান, তাদের বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ জমি সেতুর সড়কে পড়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণ না দিলে পথে বসতে হবে। তাই তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ক্ষতিপূরণ পেলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।

এলজিইডি চাঁদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য মৌজা মূল্যের তিন গুণ অতিরিক্ত টাকা দেয়া হবে। আর এজন্য ১৫ কোটি ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে ১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পেয়েছে জেলা প্রশাসন।  বাকি মাত্র ২ কোটি ৬১ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৫ টাকা না আসায় মাঝপথে থমকে যায় নির্মাণকাজ। তবে জেলা প্রশাসন সব টাকা পেলে ভূমি মালিকদের বুঝিয়ে দেবে। 

হাজীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রেজওয়ানুর রহমান জানান, সেতুর বড়কুল অংশের কাজ শুরু হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদের জন্য ১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বাকি ২ কোটি ৬১ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৫ টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে চলে আসবে বলে ধারণা করছি। তখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একসঙ্গে পুরো টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর আগে সংযোগ সড়কের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকরা তাদের ক্ষতিপূরণ না পেয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।