শেষ সময়ে এসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহম্মদ কবির করিম ও বাগেরহাট-৪ আসনের কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। তাদের মধ্যে আহম্মদ কবির জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে নিজের ও নেতাকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। গতকাল ও সোমবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে তারা নির্বাচনের মাঠ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মদ কবির করিম জানান, বৃহত্তর স্বার্থ, ইনসাফ-ভিত্তিক রাজনীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এজন্য সবাইকে ভুল না বোঝা এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা কটাক্ষ না করার অনুরোধও জানান।

সোমবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অ্যাডভোকেট আহম্মদ কবির বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনকে সমর্থন জানাচ্ছি। দলটির প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্বের প্রতীক। তার নেতৃত্বে ফটিকছড়িতে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন ও মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে জনতার দলের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার পরস্পর ঐক্যের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করায় ২১ জানুয়ারি তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। শেষ সময় তিনিও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কারণ হিসেবে নিজের ও কর্মীদের জীবনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন খায়রুজ্জামান শিপন। গতকাল দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে রোববার দুপুরে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনে মোরেলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন এ প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমাকে এবং আমার নেতাকর্মীকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমাকে বিদেশী নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মজিদ জব্বারকেও হুমকি দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে থাকলে আমার ও নেতাকর্মীদের জীবনের শঙ্কা রয়েছে। তাই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ সালেও আমি বিএনপির প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এমনকি জামায়াত প্রার্থীর অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় মনে করি, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। প্রশাসনের লোকজন আমাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করলেও তারা পারেনি। এ অবস্থায় আমরা মনে করি, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা উপজেলায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

আসনটিতে খায়রুজ্জামান শিপন ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি প্রার্থী সোমনাথ দে, জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলনের ওমর ফাকুর নূরী, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আব্দুল লতিফ খান।