সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব নির্ধারণ এবং বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকাল মৃত্যুরোধ করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মার পক্ষ থেকে এ সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর এবং মূল্য বাড়ালে সিগারেটের ব্যবহার কমে। এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রমাণিত। কাজেই আগামীতেও কর ও মূল্য বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, কার্যকর মূল্য বাড়ানোর অভাবে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের তুলনায় সস্তা হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সিগারেটের দামের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের নিচে। তামাকপণ্যের মূল্য কার্যকরভাবে বাড়াতে এরইমধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, তুরস্কসহ বিশ্বের ৬৯টি দেশ অ্যডভেলরেম পদ্ধতির পাশাপাশি ও সুনির্দিষ্ট কর প্রচলন করেছে। সুনির্দিষ্ট কর তামাকপণ্যের সর্বনিম্ন মূল্য বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর এবং এ পদ্ধিতে কর আহরণ তুলনামূলক সহজ।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন দাম ও করহার যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

এতে আত্মার প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন দৈনিক জনকন্ঠের চিফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, ডেইলি টাইমস অফ বাংলাদেশের হেড অফ অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম, আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন এবং কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী।