সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ইলিশের সর্বোচ্চ বা প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময়টাতে জাতীয় এ মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সাগর ও নদ-নদীতে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের চারদিন ও অমাবস্যার পরের তিনদিনকে অন্তর্ভুক্ত করে এরই মধ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত এ সময়ে সাগর ও ইলিশের বিচরণ রয়েছে এমন নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি উপেক্ষা করে দিনে ও রাতে বরিশালের নদ-নদীতে ইলিশ ধরছেন জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়া বেশির ভাগ ইলিশই ডিমওয়ালা।

স্থানীয়রা বলছেন, বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনা, সদর উপজেলার কীর্তনখোলা, তেঁতুলিয়া, মুলাদী ও বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ এবং বিষখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ ধরছেন জেলেরা। নদীর চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার ঘাটে সকাল থেকেই চলে ইলিশের পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা।

হিজলা উপজেলার বাউশিয়া এলাকার মেঘনাপারের জেলে মো. মকবুল বলেন, ‘পেটের দায়ে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছি। জেল-জরিমানার বিষয় জানি। কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে কী আর করার আছে।’

একই কথা বলেন হিজলার হরিণাথপুরের জেলে রাসেল। তাদের দাবি, জেলে কার্ড থাকলেও তারা চাল পাননি। প্রকৃত জেলেরা চাল পাচ্ছেন না অথচ জেলে নয় এমন লোকেরাও চাল পাচ্ছেন। পেটের তাগিদে তারা মাছ ধরছেন।

বরিশাল জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৬৬ হাজার ৫২৪ জন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা রয়েছে। তবে জেলেরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় এ বরাদ্দ অপ্রতুল।

সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন গ্রামের জেলে আলম বলেন, ‘জেলে কার্ডে মাত্র ২৫ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও ১৫ দিনেও চালের দেখা নেই।’

একই কথা বলেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জয়নগর এলাকার জেলে কবির মোল্লা। তার দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য পরিমাণ চাল দেয়ার কথা থাকলেও তা হাতে পেতে পেতে নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হয়ে যাবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে চার-পাঁচজনের সংসার কীভাবে চলবে?

প্রতি বছর আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। যাতে ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে। কিন্তু এ সময় জেলেদের বিকল্প জীবিকা না থাকায় অনেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এরই মধ্যে বেশকিছু জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়েছে। তবে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষা না পেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম আকন্দ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় চাল-ডাল ও অন্য সহায়তা শুধু নয়, বিকল্প কর্মসংস্থান বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কিছু মৌসুমি জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকার করছেন। আমরা নদীতে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছি। প্রতিদিনই জাল-নৌকাসহ জেলে আটক হচ্ছে।’