সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিমের ৯৮তম জন্মদিন আজ। ১৯২৫ সালের ১ মে বরিশালের উজিরপুর থানার আটিপাড়া গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তার জন্ম। বাবা খবিরউদ্দিন সরদার, মা সফুরা বেগম। নিজেকে অতিসাধারণ ‘‌কৃষকের পোলা’ হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তিনি।


গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি সরদার ফজলুল করিমের। ১৯৪০ সালে মাধ্যমিক পাস করে তিনি ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে ১৯৪২ সালে আইএ সম্পন্নের পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। ১৯৪৫ সালে অনার্স ও ১৯৪৬ সালে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন সরদার ফজলুল করিম। পরে ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।


রাজনৈতিক কারণে ১৯৪৮ সালে স্বেচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় ইস্তফা দেন সরদার ফজলুল করিম। সাম্যবাদী বামপন্থী সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত থাকায় পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিগৃহীত হন। রাষ্ট্রভাষা ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকতে হয়েছে বামপন্থী এই রাজনীতিবিদকে। তবে ১৯৪৯ সালে ঢাকার তাঁতী বাজারে কয়েকজন বন্ধুসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনবারে বিভিন্ন পর্যায়ে ১১ বছর কারাভোগ করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৫৪ সালে তিনি পাকিস্তান সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৫ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমির অনুবাদ শাখায় যোগ দেন সরদার ফজলুল করিম। ১৯৭১ সালে বাংলা একাডেমির সংস্কৃত শাখায় বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ঐ বছরেই মুক্তিযুদ্ধের সময় সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক আবার গ্রেফতার হন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এবার ১৯৭২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সেখানে শিক্ষাদান করেন।


সরদার ফজলুল করিমের রচিত ও অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— প্লেটোর সংলাপ, প্লেটোর রিপাবলিক, অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স, রুশোর সোশ্যাল কনট্রাকট, পাঠপ্রসঙ্গ, চল্লিশের দশকের ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ, সেই সে কাল: কিছু স্মৃতি কিছু কথা, নানা কথা, নানা কথার পরের কথা এবং নূহের কিসমত ইত্যাদি৷ এছাড়া দর্শনকোষ নামে দর্শনের একটি অভিধানও লিখেছেন তিনি।


সরদার ফজলুল করিম বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালের ১৫ জুন ৮৯ বছর বয়সে ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনাবসান ঘটে সরদার ফজলুল করিমের।